ঢাকা ০১:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চক্রআসন্ন ঈদ ঘিরে রাজধানীতে সক্রিয় মদের : ডিএনসির অভিযানে ৬৫ বোতল মদসহ গ্রেপ্তার ২

Foysal Ahmed
  • আপডেট সময় : ০৫:০৭:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
  • / ৫১ বার দেখা হয়েছে

রাজিবুল হক রনি :

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানীতে অবৈধ বিদেশি মদের মজুদ ও সরবরাহে সক্রিয় হয়ে ওঠা একটি চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। গত ১৩ মার্চ (শুক্রবার) রাতে রাজধানীর হাজারীবাগ থানাধীন বছিলা ওয়েস্ট ধানমন্ডি আবাসিক এলাকায় এক বিশেষ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. গাউসুল আজম প্রিন্স (৩৪) এবং মো. আবদুর রহমান (৩৭)। অভিযানকালে তাদের হেফাজত থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোট ৬৫ বোতল (প্রায় ৪৮.৭৫ লিটার) অবৈধ ভারতীয় মদ এবং মাদক কেনাবেচায় ব্যবহৃত ৪টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
যেভাবে পরিচালিত হলো অভিযান
ডিএনসি’র ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক জনাব মেহেদী হাসানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং সহকারী পরিচালক জনাব মোস্তাক আহমেদের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বছিলা ওয়েস্ট ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার একটি বাসায় তল্লাশি চালিয়ে ঘরের কোণে রাখা ৪টি ট্রাভেল ব্যাগ থেকে এসব মদ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মদের মধ্যে রয়েছে— রয়্যাল স্ট্যাগ, আইস ভদকা, ব্লেন্ডার্স প্রাইড এবং ম্যাকডাওয়েলস।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য
ডিএনসি জানায়, গ্রেপ্তারকৃত মো. গাউসুল আজম প্রিন্স মূলত মোহাম্মদপুরসহ ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিদেশি মদের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসার মূল হোতা। তার সহযোগী আবদুর রহমান ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা সীমান্ত এলাকা থেকে অবৈধভাবে এসব মদ সংগ্রহ করে প্রিন্সের কাছে পৌঁছে দিতেন। তারা দীর্ঘ দিন ধরে বাসা ভাড়া নিয়ে গোপনে এই ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন। আসন্ন ঈদে মদের চাহিদা বাড়ার সুযোগ নিতেই তারা এই বড় চালানটি মজুদ করেছিলেন।
জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি
অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, চোরাই পথে আসা এই বিদেশি মদগুলো অনেক সময় ভেজাল বা ক্ষতিকর রাসায়নিক (মিথানল) মিশ্রিত থাকে। এসব মদ পানে দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হওয়া থেকে শুরু করে স্থায়ী শারীরিক ক্ষতি বা মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। গত জানুয়ারিতেও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একটি ভেজাল মদের কারখানার সন্ধান পেয়েছিল ডিএনসি।
ডিএনসি’র বক্তব্য: > “উৎসবকে কেন্দ্র করে অবৈধ মাদক ও ভেজাল মদের বিস্তার রোধে রাজধানীসহ সারাদেশে আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে রক্ষা করতে আমরা বদ্ধপরিকর।”
আইনি ব্যবস্থা: গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ডিএমপি হাজারীবাগ থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত আলামতের রাসায়নিক পরীক্ষা ও এই চক্রের সাথে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

ট্যাগস:

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

চক্রআসন্ন ঈদ ঘিরে রাজধানীতে সক্রিয় মদের : ডিএনসির অভিযানে ৬৫ বোতল মদসহ গ্রেপ্তার ২

আপডেট সময় : ০৫:০৭:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

রাজিবুল হক রনি :

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানীতে অবৈধ বিদেশি মদের মজুদ ও সরবরাহে সক্রিয় হয়ে ওঠা একটি চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। গত ১৩ মার্চ (শুক্রবার) রাতে রাজধানীর হাজারীবাগ থানাধীন বছিলা ওয়েস্ট ধানমন্ডি আবাসিক এলাকায় এক বিশেষ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. গাউসুল আজম প্রিন্স (৩৪) এবং মো. আবদুর রহমান (৩৭)। অভিযানকালে তাদের হেফাজত থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোট ৬৫ বোতল (প্রায় ৪৮.৭৫ লিটার) অবৈধ ভারতীয় মদ এবং মাদক কেনাবেচায় ব্যবহৃত ৪টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
যেভাবে পরিচালিত হলো অভিযান
ডিএনসি’র ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক জনাব মেহেদী হাসানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং সহকারী পরিচালক জনাব মোস্তাক আহমেদের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বছিলা ওয়েস্ট ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার একটি বাসায় তল্লাশি চালিয়ে ঘরের কোণে রাখা ৪টি ট্রাভেল ব্যাগ থেকে এসব মদ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মদের মধ্যে রয়েছে— রয়্যাল স্ট্যাগ, আইস ভদকা, ব্লেন্ডার্স প্রাইড এবং ম্যাকডাওয়েলস।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য
ডিএনসি জানায়, গ্রেপ্তারকৃত মো. গাউসুল আজম প্রিন্স মূলত মোহাম্মদপুরসহ ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিদেশি মদের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসার মূল হোতা। তার সহযোগী আবদুর রহমান ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা সীমান্ত এলাকা থেকে অবৈধভাবে এসব মদ সংগ্রহ করে প্রিন্সের কাছে পৌঁছে দিতেন। তারা দীর্ঘ দিন ধরে বাসা ভাড়া নিয়ে গোপনে এই ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন। আসন্ন ঈদে মদের চাহিদা বাড়ার সুযোগ নিতেই তারা এই বড় চালানটি মজুদ করেছিলেন।
জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি
অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, চোরাই পথে আসা এই বিদেশি মদগুলো অনেক সময় ভেজাল বা ক্ষতিকর রাসায়নিক (মিথানল) মিশ্রিত থাকে। এসব মদ পানে দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হওয়া থেকে শুরু করে স্থায়ী শারীরিক ক্ষতি বা মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। গত জানুয়ারিতেও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একটি ভেজাল মদের কারখানার সন্ধান পেয়েছিল ডিএনসি।
ডিএনসি’র বক্তব্য: > “উৎসবকে কেন্দ্র করে অবৈধ মাদক ও ভেজাল মদের বিস্তার রোধে রাজধানীসহ সারাদেশে আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে রক্ষা করতে আমরা বদ্ধপরিকর।”
আইনি ব্যবস্থা: গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ডিএমপি হাজারীবাগ থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত আলামতের রাসায়নিক পরীক্ষা ও এই চক্রের সাথে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।