ঢাকা ০৭:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ :
বিয়ের প্রলোভনে প্রতারণা, ধর্ষণ ও তথ্য গোপন করে বিয়ে: সংবাদ সম্মেলনে নারীর অভিযোগ মানব পাচার ও মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে প্রতারণার অভিযোগে যশোরের হাসান, তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থার দাবি শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনে সরকার কাজ করছে — প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে- প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সৎ ও জনবান্ধব ইউএনও রাকিবুল হাসানের বদলির আদেশে রানীনগরে হতাশা, আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি মিথ্যা মামলায় ‘ঢাকা প্রতিদিন’-এর সাংবাদিক হাফিজুর রহমান শফিকের মুক্তির দাবিতে তেকসাসের মানববন্ধন ১৬৫ বছরের পুরোনো পুলিশ আইন: কতটা প্রস্তুত ২০২৬ সালের বাস্তবতায়? সংলাপ, সহনশীলতা, সংহতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রতি বৈশ্বিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’-বিষয়ক ঘোষণা ও কর্মসূচির বাস্তবায়নের অগ্রগতি’ শীর্ষক প্রস্তাব গ্রহণ করেছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ। শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা এবং দ্রুত শূন্যপদ পূরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানান, দীর্ঘ ১০ বছর ধরে ঝুলে থাকা ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের পদোন্নতি সংক্রান্ত মামলার জটিলতা এখন সমাধানের পথে। এছাড়া বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের ( কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে গত দুইদিনে মোট ১৩ জনকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টার (পুশ-ইন) অভিযোগ উঠেছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বিরুদ্ধে।

সুজানগর ও আমিনপুরে মাদক ও অনলাইন জুয়ার মহোৎসব: ধ্বংসের মুখে যুবসমাজ, নির্বিকার প্রশাসন

Foysal Ahmed
  • আপডেট সময় : ১২:৩৭:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১৬০ বার দেখা হয়েছে

পাবনা: প্রতিনিধি

পাবনার সুজানগর ও আমিনপুর থানা এলাকার প্রতিটি জনপদ এখন মাদক আর অনলাইন জুয়ার বিষাক্ত থাবায় আক্রান্ত। হাত বাড়ালেই মিলছে ইয়াবা, আর স্মার্টফোনের আড়ালে ঘরে ঘরে ঢুকে পড়েছে অনলাইন জুয়া। এই দ্বিমুখী মরণনেশায় একদিকে যেমন তছনছ হচ্ছে শত শত পরিবার, অন্যদিকে বাড়ছে চুরি, ছিনতাইসহ নানা সামাজিক অপরাধ। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের নীরব ভূমিকা এই অপরাধ চক্রকে আরও বেপরোয়া করে তুলেছে।
ইয়াবার নীল দংশন
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সুজানগর পৌরসভা থেকে শুরু করে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন এবং পার্শ্ববর্তী আমিনপুর থানার নির্জন ও জনবহুল—উভয় এলাকাতেই ইয়াবার রমরমা ব্যবসা চলছে। বিশেষ করে তরুণ ও কিশোরদের লক্ষ্য করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, চিহ্নিত কিছু অসাধু ব্যক্তি এই কারবার নিয়ন্ত্রণ করলেও তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পায় না কেউ। সন্ধ্যার পর বিভিন্ন মোড়ে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আড়ালে এবং নির্জন বাঁশঝাড়ে বসে ইয়াবা সেবনের আসর।
অনলাইন জুয়ার নতুন আতঙ্ক
মাদকের পাশাপাশি বর্তমানে নতুন উৎপাত হিসেবে যোগ হয়েছে ‘অনলাইন জুয়া’। বিভিন্ন অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অল্প সময়ে কোটিপতি হওয়ার লোভে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছে হাজারো যুবক। নিম্নবিত্ত থেকে শুরু করে অবস্থাপন্ন পরিবারের সন্তানরাও এই মরণনেশায় আসক্ত। অনলাইন জুয়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে অনেক তরুণ পারিবারিক কলহ থেকে শুরু করে আত্মহত্যার পথ পর্যন্ত বেছে নিচ্ছে।
ধ্বংসের মুখে যুবসমাজ ও অতিষ্ঠ জনজীবন
এলাকার সচেতন নাগরিক ও অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আগে মাদক কেবল নির্দিষ্ট কিছু মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন তা মহামারীর রূপ নিয়েছে। এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
“আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ এখন অন্ধকার। প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব চললেও কোনো স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। মাঝেমধ্যে দু-একজন ধরা পড়লেও মূল হোতারা সবসময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়।”
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
এলাকাবাসীর প্রধান অভিযোগ প্রশাসনের ‘নিশ্চুপ’ ভূমিকা নিয়ে। সাধারণ মানুষের ধারণা, পুলিশের সোর্স পরিচয়ধারী কিছু ব্যক্তি এবং প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এই অপরাধের সাম্রাজ্য বিস্তৃত হচ্ছে। থানা পুলিশের নিয়মিত অভিযান না থাকায় মাদক ব্যবসায়ী ও জুয়াড়িরা অনেকটা প্রকাশ্যে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। এলাকার মানুষ এখন একপ্রকার আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে—কখন কার সন্তান এই ধ্বংসের পথে পা বাড়ায়।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। তারা মনে করেন, সুজানগর ও আমিনপুর থানাকে মাদকমুক্ত করতে হলে কেবল লোকদেখানো অভিযান নয়, বরং তৃণমূল পর্যায়ে মাদক সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে এবং অনলাইন জুয়াড়িদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে সুজানগর ও আমিনপুরের এই জনপদ অচিরেই মেধা ও জনশক্তি হারিয়ে এক গভীর সংকটে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

ট্যাগস:

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সুজানগর ও আমিনপুরে মাদক ও অনলাইন জুয়ার মহোৎসব: ধ্বংসের মুখে যুবসমাজ, নির্বিকার প্রশাসন

আপডেট সময় : ১২:৩৭:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

পাবনা: প্রতিনিধি

পাবনার সুজানগর ও আমিনপুর থানা এলাকার প্রতিটি জনপদ এখন মাদক আর অনলাইন জুয়ার বিষাক্ত থাবায় আক্রান্ত। হাত বাড়ালেই মিলছে ইয়াবা, আর স্মার্টফোনের আড়ালে ঘরে ঘরে ঢুকে পড়েছে অনলাইন জুয়া। এই দ্বিমুখী মরণনেশায় একদিকে যেমন তছনছ হচ্ছে শত শত পরিবার, অন্যদিকে বাড়ছে চুরি, ছিনতাইসহ নানা সামাজিক অপরাধ। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের নীরব ভূমিকা এই অপরাধ চক্রকে আরও বেপরোয়া করে তুলেছে।
ইয়াবার নীল দংশন
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সুজানগর পৌরসভা থেকে শুরু করে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন এবং পার্শ্ববর্তী আমিনপুর থানার নির্জন ও জনবহুল—উভয় এলাকাতেই ইয়াবার রমরমা ব্যবসা চলছে। বিশেষ করে তরুণ ও কিশোরদের লক্ষ্য করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, চিহ্নিত কিছু অসাধু ব্যক্তি এই কারবার নিয়ন্ত্রণ করলেও তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পায় না কেউ। সন্ধ্যার পর বিভিন্ন মোড়ে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আড়ালে এবং নির্জন বাঁশঝাড়ে বসে ইয়াবা সেবনের আসর।
অনলাইন জুয়ার নতুন আতঙ্ক
মাদকের পাশাপাশি বর্তমানে নতুন উৎপাত হিসেবে যোগ হয়েছে ‘অনলাইন জুয়া’। বিভিন্ন অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অল্প সময়ে কোটিপতি হওয়ার লোভে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছে হাজারো যুবক। নিম্নবিত্ত থেকে শুরু করে অবস্থাপন্ন পরিবারের সন্তানরাও এই মরণনেশায় আসক্ত। অনলাইন জুয়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে অনেক তরুণ পারিবারিক কলহ থেকে শুরু করে আত্মহত্যার পথ পর্যন্ত বেছে নিচ্ছে।
ধ্বংসের মুখে যুবসমাজ ও অতিষ্ঠ জনজীবন
এলাকার সচেতন নাগরিক ও অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আগে মাদক কেবল নির্দিষ্ট কিছু মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন তা মহামারীর রূপ নিয়েছে। এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
“আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ এখন অন্ধকার। প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব চললেও কোনো স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। মাঝেমধ্যে দু-একজন ধরা পড়লেও মূল হোতারা সবসময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়।”
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
এলাকাবাসীর প্রধান অভিযোগ প্রশাসনের ‘নিশ্চুপ’ ভূমিকা নিয়ে। সাধারণ মানুষের ধারণা, পুলিশের সোর্স পরিচয়ধারী কিছু ব্যক্তি এবং প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এই অপরাধের সাম্রাজ্য বিস্তৃত হচ্ছে। থানা পুলিশের নিয়মিত অভিযান না থাকায় মাদক ব্যবসায়ী ও জুয়াড়িরা অনেকটা প্রকাশ্যে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। এলাকার মানুষ এখন একপ্রকার আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে—কখন কার সন্তান এই ধ্বংসের পথে পা বাড়ায়।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। তারা মনে করেন, সুজানগর ও আমিনপুর থানাকে মাদকমুক্ত করতে হলে কেবল লোকদেখানো অভিযান নয়, বরং তৃণমূল পর্যায়ে মাদক সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে এবং অনলাইন জুয়াড়িদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে সুজানগর ও আমিনপুরের এই জনপদ অচিরেই মেধা ও জনশক্তি হারিয়ে এক গভীর সংকটে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।