রাজধানী ও রূপগঞ্জে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বড় অভিযান: ‘হেরোইন সম্রাজ্ঞী’ ও ‘ইয়াবা সম্রাট’ গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় : ১১:৫৩:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
- / ৬০ বার দেখা হয়েছে
রাজিবুল হক রনি :
রাজধানীর ডেমরা এবং নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পৃথক দুটি ঝটিকা অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ কুখ্যাত এক নারী মাদক কারবারি এবং এক মাদক সম্রাটকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (DNC)। অভিযানে মোট ২০ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা, ৪০০ গ্রাম হেরোইন এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
অভিযানের বিবরণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ের উত্তরা সার্কেল টিম আজ রোববার (৫ এপ্রিল) দিনব্যাপী এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অধিদপ্তরের পরিদর্শক দেওয়ান মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন।
১. ডেমরা অভিযান: বিকেল ৫টার দিকে ডেমরা থানাধীন পূর্ব ডগাইর এলাকার একটি চারতলা ভবনে অভিযান চালিয়ে হোসনে আরা বেগম (৩৮) নামের একজনকে আটক করা হয়। এলাকায় তিনি ‘হেরোইন সম্রাজ্ঞী’ হিসেবে পরিচিত। তার কাছ থেকে ৪০০ গ্রাম হেরোইন ও ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
২. রূপগঞ্জ অভিযান: আটক হোসনে আরার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানাধীন চনপাড়া বটতলা এলাকায় অপর একটি অভিযান চালানো হয়। সেখানে সাগর আহম্মেদের বাড়ির ভাড়াটিয়া মো. ইদ্রিস (৪৫) এর ফ্ল্যাট থেকে ২০ হাজার পিস ইয়াবাসহ তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
আটককৃতদের পরিচয়
• হোসনে আরা বেগম (৩৮): স্বামী- আবু তাহের। স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম- চারগাঁও, শ্রীনগর, মুন্সিগঞ্জ।
• মো. ইদ্রিস (৪৫): পিতা- অজ্ঞাত (স্থায়ী সাং- দৌয়াপাড়া, দাউদকান্দি, কুমিল্লা)। তিনি এলাকায় ‘ইয়াবা সম্রাট’ নামে পরিচিত।
উদ্ধারকৃত আলামত একনজরেআলামতের নাম পরিমাণ
ইয়াবা ২০,৫০০ পিস
হেরোইন ৪০০ গ্রাম
নগদ টাকা ৫০,০০০ টাকা
মোবাইল ফোন ০২টি
মাদকের রুট ও হুন্ডি কানেকশন
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেছে এই মাদক চক্রটি। জানা গেছে:
• হোসনে আরা বেগম যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে হেরোইন সংগ্রহ করে পুরান ঢাকার দয়াগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় পাইকারি সরবরাহ করতেন।
• অন্যদিকে, ইদ্রিস কুমিল্লা সীমান্ত ব্যবহার করে ইয়াবা চোরাচালান করে চনপাড়া ও ঢাকার বিভিন্ন স্পটে পৌঁছে দিতেন।
• সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো, তারা এই মাদকের টাকা পরিশোধ করতেন অবৈধ হুন্ডির মাধ্যমে।
আইনি ব্যবস্থা
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, যেহেতু মাদক উদ্ধারের স্থান ভিন্ন, তাই গ্রেপ্তারকৃত দুজনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। মাদকের মূল হোতাদের নির্মূল করতে এই ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।











