বিশেষভাবে প্রস্তুত জ্যাকেটে ফেনসিডিল পাচার: চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার ৩০৯ বোতল
- আপডেট সময় : ০২:১১:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
- / ৮৭ বার দেখা হয়েছে
রাজিবুল হক রনি :
রাজধানীর মহাখালী এলাকা থেকে বিশেষভাবে প্রস্তুতকৃত জ্যাকেটের গোপন চেম্বার ও ট্রাভেল ব্যাগ তল্লাশি করে ৩০৯ বোতল কোডিন ফসফেটযুক্ত ফেন্সিডিলসহ সংঘবদ্ধ মাদক পাচার চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।
গত ০৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের একটি বিশেষ টিম বনানী থানাধীন মহাখালী কাঁচাবাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. নাসিরুল ইসলাম (৪৮, চাঁপাইনবাবগঞ্জ), মো. ফাহিম আজাদ (২৭, লালপুর, নাটোর), মোছা. জুলেখা খাতুন (৩২, শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ) এবং মোছা. শারমিন খাতুন (৩২, চাঁপাইনবাবগঞ্জ)।
ডিএনসি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় যে, একটি চক্র চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে যাত্রীবাহী বাসযোগে বিপুল পরিমাণ ফেন্সিডিল ঢাকায় আনছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ডিএনসির টিম মহাখালীর কস্তুরী রেস্টুরেন্টের সামনে অবস্থান নেয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী ‘ন্যাশনাল ট্রাভেলস’-এর বাস থামিয়ে তিন সন্দেহভাজন যাত্রীকে আটক করা হয়। তাদের ট্রাভেল ব্যাগ তল্লাশি করে ২০৯ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে ‘দেশ ট্রাভেলস’-এর অপর একটি বাস থামিয়ে আরেক যাত্রীকে আটক করা হয়। এ সময় তার দেহে বিশেষভাবে প্রস্তুতকৃত জ্যাকেট তল্লাশি করে গোপন চেম্বার থেকে ১০০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়। সবমিলিয়ে অভিযানে মোট ৩০৯ বোতল (৩০.৯ লিটার) ফেন্সিডিল এবং মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত ৫টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, সংঘবদ্ধ এই সিন্ডিকেট গত ৩-৪ বছর ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকায় ফেন্সিডিল সরবরাহ করে আসছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়াতে তারা অভিনব কায়দায় শরীরের সঙ্গে ফিট করা জ্যাকেটের গোপন চেম্বার ব্যবহার করত, যাতে বাইরের দৃষ্টিতে সাধারণ পোশাক মনে হয়। এছাড়া তারা মোবাইল ফোন বন্ধ রাখা, এনক্রিপ্টেড অ্যাপস ব্যবহার এবং একাধিক রুট পরিবর্তনের মতো কৌশল অবলম্বন করত।
ডিএনসি জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় বনানী থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। চক্রের অন্য সহযোগীদের আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।












