স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয়করণে জোরালো চাপ: রাষ্ট্রপতিসহ ১২৯ এমপির ডিও লেটার, দাবি পূরণ না হলে ফের লাগাতার কর্মসূচি
- আপডেট সময় : ১১:২৮:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
- / ৮৫ বার দেখা হয়েছে
স্টাফ রিপোর্টার:
স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয়করণ ও এমপিওভুক্তির দাবিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। এ দাবির পক্ষে বর্তমান রাষ্ট্রপতিসহ মোট ১২৯ জন সংসদ সদস্য শিক্ষামন্ত্রীর কাছে ডিও (ডেমি-অফিসিয়াল) লেটার দিয়েছেন বলে জানিয়েছে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয় শিক্ষক এক্যফ্রন্ট।
সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বর্তমান রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম), স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দা ইসলাম অমিত, হুইপ অ্যাডভোকেট এম. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, যুবদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলামসহ সরকারদলীয়, বিরোধী দল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও স্বতন্ত্র সদস্য মিলিয়ে মোট ১২৯ জন সংসদ সদস্য শিক্ষামন্ত্রীর কাছে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয়করণ ও এমপিওভুক্তির দাবিতে ডিও লেটার প্রেরণ করেছেন।
এর আগে গত ৩০ জুলাই ২০২৬ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সংগঠনের সভাপতি মাওলানা শামসুল হক আনছারী-এর সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব হাফেজ মাওলানা মুফতী আব্দুল হান্নান হোসেন-এর সঞ্চালনায় মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও জেলা-উপজেলার নেতৃবৃন্দসহ বিপুলসংখ্যক শিক্ষক অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা জানান, চলতি সরকারের সময়ে ২১ মে থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত টানা ২৯ দিন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে ১৮ জুন ২০২৬ শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর সরকারের আশ্বাসের প্রতি আস্থা রেখে আন্দোলন স্থগিত করে শিক্ষকরা পাঠদান কার্যক্রমে ফিরে যান। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
সংগঠনের দাবি, ২৮ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয়করণের ঘোষণা দেওয়া হলেও দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও একটি প্রতিষ্ঠানও জাতীয়করণ বা এমপিওভুক্ত করা হয়নি। ফলে প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতাসহ ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
এছাড়া বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা বৃত্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও মেধাবৃত্তির অর্থ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়। একই সঙ্গে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তুলনায় ইবতেদায়ী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত পরীক্ষার ফি নেওয়ার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।
সংগঠন আরও অভিযোগ করে, ১০ আগস্ট ২০২৫ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী অনুমোদিত শূন্য পদে কর্মরত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ছাড়ের নির্দেশ থাকলেও গত ১১ মাসেও তা কার্যকর হয়নি। পাশাপাশি মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দ্রুত তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বর্তমানে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে স্থায়ী মহাপরিচালক নেই এবং ইবতেদায়ী মাদ্রাসার জন্য পৃথক কোনো শাখা বা দায়িত্বপ্রাপ্ত স্থায়ী কর্মকর্তা না থাকায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা নানা প্রশাসনিক জটিলতা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
সংগঠনের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। দাবিগুলো হলো—
- স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা নীতিমালা-২০২৫ অনুযায়ী এমপিও আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি এবং অনুদানবিহীন প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন এমপিও গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ।
- অনুমোদিত শূন্য পদে কর্মরত শিক্ষকদের জুলাই ২০২৬-এর বেতন-ভাতা দ্রুত ছাড় করা।
- বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মেধাবৃত্তির অর্থ আগস্ট ২০২৬-এর মধ্যে প্রদান।
- ইবতেদায়ী মাদ্রাসার জন্য পৃথক প্রশাসনিক শাখা ও স্থায়ী কর্মকর্তা নিয়োগ।
- দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ।
দাবি পূরণ না হলে আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দেশের সব জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন এবং ৪ অক্টোবর ২০২৬ থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয় শিক্ষক এক্যফ্রন্ট।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের সভাপতি শামসুল হক আনছারী সরকারের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে আর বিলম্বের সুযোগ নেই।












