ঢাকা ০৬:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ :
টুঙ্গিপাড়ায় জাপানে চাকরির প্রলোভনে ১৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, আদালতে মামলা দায়ের যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জাতীয়তাবাদী চালক দলের শুভেচ্ছা যুবদলের গৌরবময় পথচলার ৪৮ বছর: শুভেচ্ছা জানালেন ছাত্রদল নেতা- তপন জাজিরা থানা পুলিশের অভিযানে VARDS-এর সহযোগিতায় গাজীপুর থেকে সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার তারারদেশ লিমিটেড পরিদর্শনে মালয়েশিয়ার প্রতিনিধি দল ‎ শিশু কল্যাণ পরিষদে চালক দলের সভা; জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে নিহত ও আহত চালক পরিবারের মাঝে অনুদান বিতরণ চাকমারকুল ইউপি নির্বাচনে নতুন সমীকরণ? চেয়ারম্যান পদে আলোচনার কেন্দ্রে আবুবক্কর সিদ্দিক মাসুক ফকিরাপুলে সন্ত্রাসী তাণ্ডব ​মাদকের ‘সুবিধা’ না দেওয়ায় হোটেলে হামলা, মালিকসহ রক্তাক্ত ৪ পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী: ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ সকল জাতিগোষ্ঠীকে জাতীয় মূলধারায় সম্পৃক্ত করার ঐতিহাসিক ভিত্তি

গর্ভের আড়ালে মাদক সাম্রাজ্য, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘আনিকা সিন্ডিকেটের’ দৌরাত্ম্য

Foysal Ahmed
  • আপডেট সময় : ০১:২০:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৪৭ বার দেখা হয়েছে

রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে মাদক চক্র। সরেজমিন অনুসন্ধানে এক নারী কেন্দ্রিক শক্তিশালী নেটওয়ার্কের তথ্য মিলেছে, যার নেতৃত্বে আনিকা ও তার স্বামী নাহিদ রয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিদিন ভোরে উদ্যানে প্রবেশ করে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে গাঁজা সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে আনিকার বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থাকে কৌশল হিসেবে ব্যবহার করে গত কয়েক মাস ধরে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে চলছেন।

উদ্যানের ফুল ক্যান্টিন, রমনা কালী মন্দির ও পুকুরপাড় এলাকাকে ড্রপ পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সেখানে ৫০ ও ১০০ টাকার খুচরা পোটলা থেকে শুরু করে বিভিন্ন গ্রামের প্যাকেটে মাদক কেনাবেচার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, উদ্যানের অধিকাংশ নারী খুচরা বিক্রেতা আনিকার কাছ থেকেই মাদক সংগ্রহ করেন। বিক্রির বিপরীতে কমিশন দেওয়া এবং কেউ গ্রেপ্তার হলে জামিনের ব্যবস্থা করার অভিযোগও রয়েছে। তার অধীনে বৃষ্টি, নাসরিন, সেলিনা, কুলসুম, তানিয়াসহ কয়েকজন সক্রিয় রয়েছেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

এদিকে হিজড়া সুমন, ডিস কালু, ইব্রাহিম ও নাছুর সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধেও উদ্যানের বিভিন্ন অংশে মাদক বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।

দর্শনার্থীরা জানান, টিএসসি সংলগ্ন গেট বন্ধ থাকায় অভিযানের খবর পেলেই কারবারিরা দেয়াল টপকে পালিয়ে যায়। কিভাবে তারা আগাম তথ্য পায়, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এ বিষয়ে শাহবাগ থানা পুলিশ জানায়, উদ্যানে নিরাপত্তা ও মাদক নির্মূলে নিয়মিত অভিযান চলছে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) জানিয়েছে, উন্মুক্ত স্থানে মাদক তৎপরতা রোধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং হটস্পটগুলোতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

ট্যাগস:

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

গর্ভের আড়ালে মাদক সাম্রাজ্য, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘আনিকা সিন্ডিকেটের’ দৌরাত্ম্য

আপডেট সময় : ০১:২০:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে মাদক চক্র। সরেজমিন অনুসন্ধানে এক নারী কেন্দ্রিক শক্তিশালী নেটওয়ার্কের তথ্য মিলেছে, যার নেতৃত্বে আনিকা ও তার স্বামী নাহিদ রয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিদিন ভোরে উদ্যানে প্রবেশ করে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে গাঁজা সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে আনিকার বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থাকে কৌশল হিসেবে ব্যবহার করে গত কয়েক মাস ধরে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে চলছেন।

উদ্যানের ফুল ক্যান্টিন, রমনা কালী মন্দির ও পুকুরপাড় এলাকাকে ড্রপ পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সেখানে ৫০ ও ১০০ টাকার খুচরা পোটলা থেকে শুরু করে বিভিন্ন গ্রামের প্যাকেটে মাদক কেনাবেচার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, উদ্যানের অধিকাংশ নারী খুচরা বিক্রেতা আনিকার কাছ থেকেই মাদক সংগ্রহ করেন। বিক্রির বিপরীতে কমিশন দেওয়া এবং কেউ গ্রেপ্তার হলে জামিনের ব্যবস্থা করার অভিযোগও রয়েছে। তার অধীনে বৃষ্টি, নাসরিন, সেলিনা, কুলসুম, তানিয়াসহ কয়েকজন সক্রিয় রয়েছেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

এদিকে হিজড়া সুমন, ডিস কালু, ইব্রাহিম ও নাছুর সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধেও উদ্যানের বিভিন্ন অংশে মাদক বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।

দর্শনার্থীরা জানান, টিএসসি সংলগ্ন গেট বন্ধ থাকায় অভিযানের খবর পেলেই কারবারিরা দেয়াল টপকে পালিয়ে যায়। কিভাবে তারা আগাম তথ্য পায়, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এ বিষয়ে শাহবাগ থানা পুলিশ জানায়, উদ্যানে নিরাপত্তা ও মাদক নির্মূলে নিয়মিত অভিযান চলছে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) জানিয়েছে, উন্মুক্ত স্থানে মাদক তৎপরতা রোধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং হটস্পটগুলোতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।