এবার দেশ গড়ার পালা এ বিজয় গণতন্ত্রের
- আপডেট সময় : ০৯:৫৬:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ৯২ বার দেখা হয়েছে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বল রুমে শনিবার সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান
যে কোনো মূল্য দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিএনপিকে নির্বাচনে বিজয়ী করার জন্য দেশের জনগণকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, এ বিজয় গণতন্ত্রের, এ বিজয় বাংলাদেশের, এ বিজয় দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের। আজ থেকে আমরা স্বাধীন।
শনিবার বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে নির্বাচনোত্তর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
দেশ গড়তে ঐক্যের ডাক দিয়ে তারেক রহমান বলেন, এবার দেশ গড়ার পালা। এজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, আর বিভাজন দুর্বলতা। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এবং এ দেশের মানুষের বৃহত্তর স্বার্থকে প্রধান্য দিয়ে আমরা আমাদের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ করব। আর জনগণকে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করব।
তারেক রহমান বলেন, আমরা শান্তভাবে বিজয় উদ্যাপন করেছি। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি যেন সৃষ্টি না হয়, সেজন্য আমি দল এবং জোটের নেতাকর্মীদের আনন্দ মিছিল করতে নিষেধ করেছি। আমরা দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে বিজয়ের শুকরিয়া আদায় করেছি।
আরেক প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, শেখ হাসিনার দেশে প্রত্যর্পণ আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে। এ ক্ষেত্রে বিএনপি কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না। নির্বাচনের আগে ইশতেহারের মাধ্যমে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, নতুন সরকারের কাছে মানুষ শান্তি ও স্বস্তি চায়।
নতুন সরকারের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জ, আঞ্চলিক কূটনীতি, অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুসহ বিভিন্ন বিষয়ে দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করেছেন নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তারেক রহমান বলেন, আমরা বলেছিলাম জনগণের রায় পেলে বিএনপি রাষ্ট্র মেরামতের রূপরেখা উপস্থাপন করবে। অন্যান্য গণতান্ত্রিক দল এবং দেশের জনগণের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে ৩১ দফা সংস্কার প্রণয়ন করা হয়, যা দলের ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত ছিল। একই সঙ্গে কিছু বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়ে বিএনপি জুলাই সনদেও সই করেছিল।
নতুন সরকারের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ কী- এ প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, ক্ষমতা গ্রহণের পর সরকারের সামনে বেশ কিছু কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় হচ্ছে দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি ও পুঁজির সংকট মোকাবিলা। ব্যাংকিং খাতে পর্যাপ্ত ঋণপ্রবাহ নিশ্চিত করা, তারল্য সংকট দূর করা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে অগ্রাধিকার। পাশাপাশি জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গত শাসনামলে দলীয়করণ হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোতে পেশাদারিত্ব ও সুশাসন ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সরকার কেবল তরুণদের নয়, সমাজের সব স্তরের মানুষের কথা শুনবে। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী ও নারীদের সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং নীতিনির্ধারণে সাধারণ মানুষের আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটানো হবে। একটি নিরাপদ, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে সবার সহযোগিতা কামনা করছি।
তারেক রহমান বলেন, দলমত, ধর্ম, বর্ণ কিংবা ভিন্নমত যাই হোক, কোনো অজুহাতেই দুর্বলের ওপর সবলের আক্রমণ মেনে নেওয়া হবে না। ন্যায়পরায়ণতাই হবে আদর্শ। কোনো রকমের অন্যায় কিংবা বেআইনি কর্মকা- বরদাস্ত করা হবে না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা না গেলে আমাদের সব প্রচেষ্টা বৃথা যেতে বাধ্য। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারি দল কিংবা বিরোধী দল, অন্য মত কিংবা ভিন্নমত; প্রতিটি বাংলাদেশি নাগরিকের জন্যই আইন সমান। আইনের প্রয়োগ হবে বিধিবদ্ধ নিয়মে। কারো ওপর কোনো রকমের অন্যায় কিংবা বেআইনি কর্মকা- বরদাস্ত করা হবে না।
আরেক প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, আঞ্চলিক কূটনীতি ও দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা সার্ক পুনরুজ্জীবনের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, যেহেতু এই জোটের যাত্রা শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের হাত ধরে, তাই বিএনপি সরকার চাইবে সার্ক আবার সক্রিয় ও কার্যকর হোক। তিনি বলেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার দূরত্ব কমিয়ে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ আলোচনার মাধ্যমে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার চেষ্টা করবে। প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে।
বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ এবং চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের বিষয়ে বিএনপির ভাবনা কী হবে- এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী। তবে যে কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তিনি বলেন, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) যদি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য সহায়ক ও লাভজনক হয়, তবেই সরকার এ উদ্যোগে ইতিবাচকভাবে এগোবে।
তারেক রহমান বলেন, সারাদেশে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী-সমর্থক ছাড়াও দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের সামনে আজকের এ সময়টি ভীষণ আনন্দের। এমন এক আনন্দঘন পরিবেশে আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি আমাদের ভারাক্রান্ত করে। আমরা আল্লাহর দরবারে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার এমন একটি গণতান্ত্রিক সময়ের প্রত্যাশায় খালেদা জিয়া ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আপসহীন লড়েছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরাচার কিংবা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে কখনই আপস করেননি। দেশ এবং জনগণের স্বার্থের প্রশ্নে বরাবরই তিনি ছিলেন অটল-অবিচল।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ বিএনপির প্রতি যে বিশ্বাস ও ভালোবাসা দেখিয়েছে এবার তার প্রতিদান দেওয়ার পালা। স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে দেশের জনগণ আবারও রাষ্ট্র পরিচালনার ম্যান্ডেট দিয়েছে। জনগণ বিএনপির প্রতি যে বিশ্বাস এবং ভালোবাসা দেখিয়েছে, এবার মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য নিরলস কাজের মাধ্যমে জনগণের এ বিশ্বাস ও ভালোবাসার প্রতিদান দেওয়ার পালা। আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যেতে হবে।
বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, শত নির্যাতন-নিপীড়নের পরও আপনারা রাজপথ ছাড়েননি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অটুট-অনড় ছিলেন। এবার দেশ গড়ার পালা। দেশ পুনর্গঠনের এ যাত্রায় আমাদের প্রত্যেককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আমরা গণতন্ত্র এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার এ বিজয়কে শান্তভাবে দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে উদ্যাপন করেছি। নির্বাচনোত্তর বাংলাদেশে যাতে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, এজন্য শত উসকানির মুখেও আমি সারাদেশে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের শান্ত এবং সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।




















