ঢাকা ০৫:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ :
বিয়ের প্রলোভনে প্রতারণা, ধর্ষণ ও তথ্য গোপন করে বিয়ে: সংবাদ সম্মেলনে নারীর অভিযোগ মানব পাচার ও মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে প্রতারণার অভিযোগে যশোরের হাসান, তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থার দাবি শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনে সরকার কাজ করছে — প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে- প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সৎ ও জনবান্ধব ইউএনও রাকিবুল হাসানের বদলির আদেশে রানীনগরে হতাশা, আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি মিথ্যা মামলায় ‘ঢাকা প্রতিদিন’-এর সাংবাদিক হাফিজুর রহমান শফিকের মুক্তির দাবিতে তেকসাসের মানববন্ধন ১৬৫ বছরের পুরোনো পুলিশ আইন: কতটা প্রস্তুত ২০২৬ সালের বাস্তবতায়? সংলাপ, সহনশীলতা, সংহতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রতি বৈশ্বিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’-বিষয়ক ঘোষণা ও কর্মসূচির বাস্তবায়নের অগ্রগতি’ শীর্ষক প্রস্তাব গ্রহণ করেছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ। শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা এবং দ্রুত শূন্যপদ পূরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানান, দীর্ঘ ১০ বছর ধরে ঝুলে থাকা ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের পদোন্নতি সংক্রান্ত মামলার জটিলতা এখন সমাধানের পথে। এছাড়া বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের ( কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে গত দুইদিনে মোট ১৩ জনকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টার (পুশ-ইন) অভিযোগ উঠেছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বিরুদ্ধে।

বিয়ের প্রলোভনে প্রতারণা, ধর্ষণ ও তথ্য গোপন করে বিয়ে: সংবাদ সম্মেলনে নারীর অভিযোগ

আব্দুল হাসিব
  • আপডেট সময় : ০৮:৫০:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
  • / ৮ বার দেখা হয়েছে

রংপুর জেলা ।।

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা, ধর্ষণ, পূর্বের সংসারের তথ্য গোপন করে বিয়ে এবং আর্থিকভাবে প্রতারণার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন রোকসানা আক্তার নামে এক নারী। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে রংপুর রিপোর্টার্স ক্লাব অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরে ন্যায়বিচারের দাবি জানান।

লিখিত বক্তব্যে রোকসানা আক্তার জানান, তিনি রংপুর জেলার তারাগঞ্জ উপজেলার হাড়িয়ালকুটি ইউনিয়নের চাপড়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। ২০২০ সালে একটি পারিবারিক মামলার সূত্রে রংপুর আদালতে মাসুদ রানার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সে সময় মাসুদ রানা নিজেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্টাফ পরিচয় দিয়ে মামলায় সহযোগিতা ও অনুকূল রায় পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। ওই আশ্বাসে বিশ্বাস করে তিনি বিভিন্ন সময়ে তার কাছে অর্থ প্রদান করেন। পরে বিষয়টি প্রতারণা ছিল বলে তিনি বুঝতে পারেন বলে দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে রোকসানা অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত মাসুদ রানা তার পূর্বের বিবাহ এবং দুই সন্তানের বিষয়টি গোপন রেখে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। একপর্যায়ে রংপুর নগরীর মুলাটোল এলাকার একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে গিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এরপর দীর্ঘদিন বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখেন বলে দাবি করেন।

রোকসানার ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ পাঁচ বছর পর চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি মুসলিম শরিয়াহ অনুযায়ী ১০ লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর কিছুদিন সংসার করার পর অভিযুক্ত তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। তিনি আরও দাবি করেন, ঢাকায় চাকরিরত অবস্থায় নিয়মিত নিজের বেতন-ভাতার অর্থ স্বামীর বিকাশ অ্যাকাউন্টে পাঠিয়েছেন।

তিনি জানান, বিয়ের পর একাধিকবার কাবিননামা চাইলে তা তাকে দেওয়া হয়নি। পরে সংশ্লিষ্ট কাজীর কাছ থেকে কাবিননামা সংগ্রহ করে জানতে পারেন, অভিযুক্তের আগের স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে, যা শুরু থেকেই তার কাছে গোপন রাখা হয়েছিল।

সংবাদ সম্মেলনে রোকসানা আক্তার আরও অভিযোগ করেন, আইনগত ও সামাজিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অভিযুক্তের পরিবার, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবং রংপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের কাছেও লিখিত অভিযোগ দিলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, মাসুদ রানা মামলা-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকেও অর্থ গ্রহণ করে প্রতারণা করেছেন। এসব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাসুদ রানার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, রোকসানা আক্তারের পরিবারের সদস্যরা অভিযুক্তকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগস:

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বিয়ের প্রলোভনে প্রতারণা, ধর্ষণ ও তথ্য গোপন করে বিয়ে: সংবাদ সম্মেলনে নারীর অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৮:৫০:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

রংপুর জেলা ।।

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা, ধর্ষণ, পূর্বের সংসারের তথ্য গোপন করে বিয়ে এবং আর্থিকভাবে প্রতারণার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন রোকসানা আক্তার নামে এক নারী। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে রংপুর রিপোর্টার্স ক্লাব অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরে ন্যায়বিচারের দাবি জানান।

লিখিত বক্তব্যে রোকসানা আক্তার জানান, তিনি রংপুর জেলার তারাগঞ্জ উপজেলার হাড়িয়ালকুটি ইউনিয়নের চাপড়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। ২০২০ সালে একটি পারিবারিক মামলার সূত্রে রংপুর আদালতে মাসুদ রানার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সে সময় মাসুদ রানা নিজেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্টাফ পরিচয় দিয়ে মামলায় সহযোগিতা ও অনুকূল রায় পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। ওই আশ্বাসে বিশ্বাস করে তিনি বিভিন্ন সময়ে তার কাছে অর্থ প্রদান করেন। পরে বিষয়টি প্রতারণা ছিল বলে তিনি বুঝতে পারেন বলে দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে রোকসানা অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত মাসুদ রানা তার পূর্বের বিবাহ এবং দুই সন্তানের বিষয়টি গোপন রেখে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। একপর্যায়ে রংপুর নগরীর মুলাটোল এলাকার একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে গিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এরপর দীর্ঘদিন বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখেন বলে দাবি করেন।

রোকসানার ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ পাঁচ বছর পর চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি মুসলিম শরিয়াহ অনুযায়ী ১০ লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর কিছুদিন সংসার করার পর অভিযুক্ত তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। তিনি আরও দাবি করেন, ঢাকায় চাকরিরত অবস্থায় নিয়মিত নিজের বেতন-ভাতার অর্থ স্বামীর বিকাশ অ্যাকাউন্টে পাঠিয়েছেন।

তিনি জানান, বিয়ের পর একাধিকবার কাবিননামা চাইলে তা তাকে দেওয়া হয়নি। পরে সংশ্লিষ্ট কাজীর কাছ থেকে কাবিননামা সংগ্রহ করে জানতে পারেন, অভিযুক্তের আগের স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে, যা শুরু থেকেই তার কাছে গোপন রাখা হয়েছিল।

সংবাদ সম্মেলনে রোকসানা আক্তার আরও অভিযোগ করেন, আইনগত ও সামাজিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অভিযুক্তের পরিবার, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবং রংপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের কাছেও লিখিত অভিযোগ দিলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, মাসুদ রানা মামলা-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকেও অর্থ গ্রহণ করে প্রতারণা করেছেন। এসব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাসুদ রানার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, রোকসানা আক্তারের পরিবারের সদস্যরা অভিযুক্তকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।