কদমতলীতে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে হত্যা, গ্রেপ্তার-২, পলাতক-৩
- আপডেট সময় : ০৯:৩৮:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
- / ৬৮ বার দেখা হয়েছে
রাজধানীর কদমতলী থানাধীন নতুন জুরাইন আলমবাগ এলাকায় যৌতুকের দাবিতে ঊর্মি আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. মনির বাদী হয়ে কদমতলী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পর দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালে শরিয়াহ মোতাবেক নতুন জুরাইন আলমবাগ এলাকার বাসিন্দা সাইদুজ্জামান মোহনের সঙ্গে ঊর্মি আক্তারের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে পাঁচ বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিয়ের পর থেকেই ব্যবসার জন্য পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিলেন স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা। যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় ঊর্মির ওপর দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১৫ জুলাই ২০২৬ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে যৌতুকের দাবিকে কেন্দ্র করে আবারও বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে স্বামী সাইদুজ্জামান মোহন লোহার রড দিয়ে ঊর্মির মাথার পেছনে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে কদমতলী থানা পুলিশ রাতেই স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. মনির বাদী হয়ে কদমতলী থানায় মামলা নং-২৫ (তারিখ: ১৬ জুলাই ২০২৬) দায়ের করেন। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় রুজু করা হয়েছে।
মামলায় পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন— নিহতের স্বামী সাইদুজ্জামান মোহন (৩৮), শাশুড়ি জয়তারা বেগম (৬০), ননদ রেশমা বেগম (৩০), মো. নোবেল হোসেন (৩৫) এবং সোহেল।
কদমতলী থানা পুলিশ জানিয়েছে, মামলার পর শাশুড়ি জয়তারা বেগম ও ননদ রেশমা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর তিন আসামি পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, এ ঘটনার পর নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং আদালতের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।




















