১৬৫ বছরের পুরোনো পুলিশ আইন: কতটা প্রস্তুত ২০২৬ সালের বাস্তবতায়?
- আপডেট সময় : ০২:০৮:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
- / ২৯ বার দেখা হয়েছে
ক্রাইম রিপোর্টার: মোঃ হাসিবুল ইসলাম।।
ব্রিটিশ আমলের পুরোনো কাঠামোর ওপর ভর করে পরিচালিত হচ্ছে বর্তমান বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী। ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের প্রেক্ষাপটে ব্রিটিশ সরকার ২২ মার্চ ১৮৬১ সালে প্রণয়ন করেছিল ‘পুলিশ আইন, ১৮৬১’ (The Police Act, 1861)। দেড় যুগেরও বেশি সময় পার হলেও এখনো এই ঔপনিবেশিক আইনের আলোকেই পরিচালিত হচ্ছে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
১৮৬১ সালের আইনের মূল কাঠামো ও পরিধি
এই আইনে মূলত পুলিশ বাহিনী গঠন, সরকারের তত্ত্বাবধান, পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) নিয়োগ ও ক্ষমতা, এবং পুলিশ সদস্যদের নিয়োগ, শৃঙ্খলা, দায়িত্ব ও শাস্তির বিধান নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া বিশেষ পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত বা বিশেষ পুলিশ নিয়োগ, জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং মিছিল-সমাবেশ নিয়ন্ত্রণের বিধানও রাখা হয়েছে এই আইনে।
আইনের ২৩ ধারায় পুলিশের প্রধান দায়িত্ব হিসেবে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে—
-
জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা
-
অপরাধ প্রতিরোধ করা
-
অপরাধী গ্রেপ্তার করা
-
সার্বিক আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা
তবে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুলিশ আইন, ১৮৬১ মূলত বাহিনীর অভ্যন্তরীণ সংগঠন ও সাধারণ দায়িত্ব নির্ধারণ করে। অপরদিকে অপরাধ তদন্ত, গ্রেপ্তার, তল্লাশি, রিমান্ড ও জামিনসহ ফৌজদারি বিচারসংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয় ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC), দণ্ডবিধি, সাক্ষ্য আইন এবং অন্যান্য বিশেষ আইনের মাধ্যমে।
রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও ক্ষমতার অপব্যবহার
বিশ্লেষকদের মতে, ঔপনিবেশিক এই কাঠামোর কারণে পুলিশ বাহিনী দীর্ঘকাল ধরেই নির্বাহী বিভাগের প্রভাবাধীন থেকে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে। ক্ষমতায় থাকা সরকার যেভাবে নির্দেশ দেয়, পুলিশ প্রথাগতভাবে সেভাবেই কাজ করতে অভ্যস্ত। অতীতে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সরকারের আমলে সাধারণ মানুষের ওপর বলপ্রয়োগের চিত্রটি এর একটি বড় উদাহরণ। বিশ্লেষকদের ধারণা, আইনের মৌলিক সংস্কার না হলে যেকোনো সরকার চাইলে ভবিষ্যতেও এই বাহিনীর মাধ্যমে কঠোর অবস্থান নিতে পারে।
আধুনিক আইনের প্রয়োজনীয়তা ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা
বর্তমান ২০২৬ সালের পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় ১৮৬১ সালের পুরোনো পুলিশ আইনের পরিবর্তে একটি আধুনিক, জনবান্ধব ও যুগোপযোগী আইন বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।সংশ্লিষ্টদের মতে, আধুনিক আইনি কাঠামো ও গণতান্ত্রিক মানসিকতার বিকাশ ঘটলে ভবিষ্যতে যেকোনো আন্দোলন বা বিক্ষোভ দমনে মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগের সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসা সম্ভব। সে ক্ষেত্রে পুলিশ বলপ্রয়োগের পরিবর্তে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা এবং সচেতনতার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবে—এমনটাই প্রত্যাশা দেশবাসীর।





















