ঢাকা ০৬:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ :
বিয়ের প্রলোভনে প্রতারণা, ধর্ষণ ও তথ্য গোপন করে বিয়ে: সংবাদ সম্মেলনে নারীর অভিযোগ মানব পাচার ও মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে প্রতারণার অভিযোগে যশোরের হাসান, তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থার দাবি শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনে সরকার কাজ করছে — প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে- প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সৎ ও জনবান্ধব ইউএনও রাকিবুল হাসানের বদলির আদেশে রানীনগরে হতাশা, আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি মিথ্যা মামলায় ‘ঢাকা প্রতিদিন’-এর সাংবাদিক হাফিজুর রহমান শফিকের মুক্তির দাবিতে তেকসাসের মানববন্ধন ১৬৫ বছরের পুরোনো পুলিশ আইন: কতটা প্রস্তুত ২০২৬ সালের বাস্তবতায়? সংলাপ, সহনশীলতা, সংহতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রতি বৈশ্বিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’-বিষয়ক ঘোষণা ও কর্মসূচির বাস্তবায়নের অগ্রগতি’ শীর্ষক প্রস্তাব গ্রহণ করেছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ। শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা এবং দ্রুত শূন্যপদ পূরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানান, দীর্ঘ ১০ বছর ধরে ঝুলে থাকা ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের পদোন্নতি সংক্রান্ত মামলার জটিলতা এখন সমাধানের পথে। এছাড়া বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের ( কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে গত দুইদিনে মোট ১৩ জনকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টার (পুশ-ইন) অভিযোগ উঠেছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বিরুদ্ধে।

১৬৫ বছরের পুরোনো পুলিশ আইন: কতটা প্রস্তুত ২০২৬ সালের বাস্তবতায়?

আব্দুল হাসিব
  • আপডেট সময় : ০২:০৮:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
  • / ২৯ বার দেখা হয়েছে

ক্রাইম রিপোর্টার: মোঃ হাসিবুল ইসলাম।।

ব্রিটিশ আমলের পুরোনো কাঠামোর ওপর ভর করে পরিচালিত হচ্ছে বর্তমান বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী। ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের প্রেক্ষাপটে ব্রিটিশ সরকার ২২ মার্চ ১৮৬১ সালে প্রণয়ন করেছিল ‘পুলিশ আইন, ১৮৬১’ (The Police Act, 1861)। দেড় যুগেরও বেশি সময় পার হলেও এখনো এই ঔপনিবেশিক আইনের আলোকেই পরিচালিত হচ্ছে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

১৮৬১ সালের আইনের মূল কাঠামো ও পরিধি

এই আইনে মূলত পুলিশ বাহিনী গঠন, সরকারের তত্ত্বাবধান, পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) নিয়োগ ও ক্ষমতা, এবং পুলিশ সদস্যদের নিয়োগ, শৃঙ্খলা, দায়িত্ব ও শাস্তির বিধান নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া বিশেষ পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত বা বিশেষ পুলিশ নিয়োগ, জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং মিছিল-সমাবেশ নিয়ন্ত্রণের বিধানও রাখা হয়েছে এই আইনে।

আইনের ২৩ ধারায় পুলিশের প্রধান দায়িত্ব হিসেবে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে—

  • জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা

  • অপরাধ প্রতিরোধ করা

  • অপরাধী গ্রেপ্তার করা

  • সার্বিক আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা

তবে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুলিশ আইন, ১৮৬১ মূলত বাহিনীর অভ্যন্তরীণ সংগঠন ও সাধারণ দায়িত্ব নির্ধারণ করে। অপরদিকে অপরাধ তদন্ত, গ্রেপ্তার, তল্লাশি, রিমান্ড ও জামিনসহ ফৌজদারি বিচারসংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয় ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC), দণ্ডবিধি, সাক্ষ্য আইন এবং অন্যান্য বিশেষ আইনের মাধ্যমে।

রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও ক্ষমতার অপব্যবহার

বিশ্লেষকদের মতে, ঔপনিবেশিক এই কাঠামোর কারণে পুলিশ বাহিনী দীর্ঘকাল ধরেই নির্বাহী বিভাগের প্রভাবাধীন থেকে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে। ক্ষমতায় থাকা সরকার যেভাবে নির্দেশ দেয়, পুলিশ প্রথাগতভাবে সেভাবেই কাজ করতে অভ্যস্ত। অতীতে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সরকারের আমলে সাধারণ মানুষের ওপর বলপ্রয়োগের চিত্রটি এর একটি বড় উদাহরণ। বিশ্লেষকদের ধারণা, আইনের মৌলিক সংস্কার না হলে যেকোনো সরকার চাইলে ভবিষ্যতেও এই বাহিনীর মাধ্যমে কঠোর অবস্থান নিতে পারে।

আধুনিক আইনের প্রয়োজনীয়তা ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা

বর্তমান ২০২৬ সালের পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় ১৮৬১ সালের পুরোনো পুলিশ আইনের পরিবর্তে একটি আধুনিক, জনবান্ধব ও যুগোপযোগী আইন বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।সংশ্লিষ্টদের মতে, আধুনিক আইনি কাঠামো ও গণতান্ত্রিক মানসিকতার বিকাশ ঘটলে ভবিষ্যতে যেকোনো আন্দোলন বা বিক্ষোভ দমনে মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগের সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসা সম্ভব। সে ক্ষেত্রে পুলিশ বলপ্রয়োগের পরিবর্তে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা এবং সচেতনতার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবে—এমনটাই প্রত্যাশা দেশবাসীর।

ট্যাগস:

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

১৬৫ বছরের পুরোনো পুলিশ আইন: কতটা প্রস্তুত ২০২৬ সালের বাস্তবতায়?

আপডেট সময় : ০২:০৮:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

ক্রাইম রিপোর্টার: মোঃ হাসিবুল ইসলাম।।

ব্রিটিশ আমলের পুরোনো কাঠামোর ওপর ভর করে পরিচালিত হচ্ছে বর্তমান বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী। ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের প্রেক্ষাপটে ব্রিটিশ সরকার ২২ মার্চ ১৮৬১ সালে প্রণয়ন করেছিল ‘পুলিশ আইন, ১৮৬১’ (The Police Act, 1861)। দেড় যুগেরও বেশি সময় পার হলেও এখনো এই ঔপনিবেশিক আইনের আলোকেই পরিচালিত হচ্ছে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

১৮৬১ সালের আইনের মূল কাঠামো ও পরিধি

এই আইনে মূলত পুলিশ বাহিনী গঠন, সরকারের তত্ত্বাবধান, পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) নিয়োগ ও ক্ষমতা, এবং পুলিশ সদস্যদের নিয়োগ, শৃঙ্খলা, দায়িত্ব ও শাস্তির বিধান নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া বিশেষ পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত বা বিশেষ পুলিশ নিয়োগ, জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং মিছিল-সমাবেশ নিয়ন্ত্রণের বিধানও রাখা হয়েছে এই আইনে।

আইনের ২৩ ধারায় পুলিশের প্রধান দায়িত্ব হিসেবে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে—

  • জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা

  • অপরাধ প্রতিরোধ করা

  • অপরাধী গ্রেপ্তার করা

  • সার্বিক আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা

তবে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুলিশ আইন, ১৮৬১ মূলত বাহিনীর অভ্যন্তরীণ সংগঠন ও সাধারণ দায়িত্ব নির্ধারণ করে। অপরদিকে অপরাধ তদন্ত, গ্রেপ্তার, তল্লাশি, রিমান্ড ও জামিনসহ ফৌজদারি বিচারসংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয় ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC), দণ্ডবিধি, সাক্ষ্য আইন এবং অন্যান্য বিশেষ আইনের মাধ্যমে।

রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও ক্ষমতার অপব্যবহার

বিশ্লেষকদের মতে, ঔপনিবেশিক এই কাঠামোর কারণে পুলিশ বাহিনী দীর্ঘকাল ধরেই নির্বাহী বিভাগের প্রভাবাধীন থেকে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে। ক্ষমতায় থাকা সরকার যেভাবে নির্দেশ দেয়, পুলিশ প্রথাগতভাবে সেভাবেই কাজ করতে অভ্যস্ত। অতীতে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সরকারের আমলে সাধারণ মানুষের ওপর বলপ্রয়োগের চিত্রটি এর একটি বড় উদাহরণ। বিশ্লেষকদের ধারণা, আইনের মৌলিক সংস্কার না হলে যেকোনো সরকার চাইলে ভবিষ্যতেও এই বাহিনীর মাধ্যমে কঠোর অবস্থান নিতে পারে।

আধুনিক আইনের প্রয়োজনীয়তা ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা

বর্তমান ২০২৬ সালের পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় ১৮৬১ সালের পুরোনো পুলিশ আইনের পরিবর্তে একটি আধুনিক, জনবান্ধব ও যুগোপযোগী আইন বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।সংশ্লিষ্টদের মতে, আধুনিক আইনি কাঠামো ও গণতান্ত্রিক মানসিকতার বিকাশ ঘটলে ভবিষ্যতে যেকোনো আন্দোলন বা বিক্ষোভ দমনে মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগের সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসা সম্ভব। সে ক্ষেত্রে পুলিশ বলপ্রয়োগের পরিবর্তে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা এবং সচেতনতার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবে—এমনটাই প্রত্যাশা দেশবাসীর।