ঢাকা ০৮:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ :
বিয়ের প্রলোভনে প্রতারণা, ধর্ষণ ও তথ্য গোপন করে বিয়ে: সংবাদ সম্মেলনে নারীর অভিযোগ মানব পাচার ও মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে প্রতারণার অভিযোগে যশোরের হাসান, তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থার দাবি শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনে সরকার কাজ করছে — প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে- প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সৎ ও জনবান্ধব ইউএনও রাকিবুল হাসানের বদলির আদেশে রানীনগরে হতাশা, আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি মিথ্যা মামলায় ‘ঢাকা প্রতিদিন’-এর সাংবাদিক হাফিজুর রহমান শফিকের মুক্তির দাবিতে তেকসাসের মানববন্ধন ১৬৫ বছরের পুরোনো পুলিশ আইন: কতটা প্রস্তুত ২০২৬ সালের বাস্তবতায়? সংলাপ, সহনশীলতা, সংহতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রতি বৈশ্বিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’-বিষয়ক ঘোষণা ও কর্মসূচির বাস্তবায়নের অগ্রগতি’ শীর্ষক প্রস্তাব গ্রহণ করেছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ। শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা এবং দ্রুত শূন্যপদ পূরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানান, দীর্ঘ ১০ বছর ধরে ঝুলে থাকা ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের পদোন্নতি সংক্রান্ত মামলার জটিলতা এখন সমাধানের পথে। এছাড়া বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের ( কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে গত দুইদিনে মোট ১৩ জনকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টার (পুশ-ইন) অভিযোগ উঠেছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বিরুদ্ধে।

চাঁদাবাজি বন্ধে কড়া পদক্ষেপ চান ব্যবসায়ীরা

আব্দুল হাসিব
  • আপডেট সময় : ১১:২১:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১১৯ বার দেখা হয়েছে

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকিন আহমেদ বলেছেন, ব্যবসা পরিচালনার বিভিন্ন পর্যায়ে অনানুষ্ঠানিক অর্থ দিতে হচ্ছে। পুলিশ, সিটি করপোরেশন, আয়কর দপ্তরসহ নানা জায়গায় নিয়মিত অর্থ দিতে হওয়ায় ব্যবসার ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে এবং নতুন বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হচ্ছে।

গতকাল সোমবার রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই কার্যালয়ে ‘বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় নবগঠিত সরকারের কাছে প্রত্যাশা’ শিরোনামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

বর্তমান সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘চাঁদাবাজির পাশাপাশি সরকারি দপ্তরের দুর্নীতি শক্ত হাতে দমন করতে হবে। তা না হলে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কঠিন হবে।’ সরকারি খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তাসকিন আহমেদ বলেন, ‘দুর্নীতি কমেনি বলেই কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ছে না।’

এই ব্যবসায়ী নেতা মনে করেন, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে অনেক ব্যবসায়ী ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হবেন। তাই নতুন সরকারের কাছে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার আহবান জানিয়েছেন তিনি।

তাসকিন আহমেদ বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে ব্যবসায়ীদের যে হারে চাঁদা দিতে হতো, ২০২৪ সালের ৬ আগস্টের পরও একই হারে চাঁদা দিতে হয়েছে; অনেক ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি চাঁদা দিতে হয়েছে। এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সরকারি দপ্তরে দুর্নীতি কমেনি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সংস্কার জরুরি উল্লেখ করে তিনি এনবিআর পৃথকীকরণ ও দ্রুত অটোমেশন সম্পন্ন করার আহবান জানান। কার্যকর উদ্যোগ নিলে আট মাসের মধ্যেই অটোমেশন সম্পন্ন করা সম্ভব বলেও তিনি মন্তব্য করেন। কর কাঠামো সহজ করতে টার্নওভার কর ০.৬ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব দেন তিনি।

ব্যাংকঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কাগজপত্র ও জটিল প্রক্রিয়াকে ব্যবসা সম্প্রসারণের অন্যতম বাধা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বিনিয়োগ সহজ করতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) ‘সিঙ্গেল উইন্ডো’ ব্যবস্থা কার্যকর করার আহবান জানানো হয়। আর্থিক খাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ৬.৪৯ শতাংশে নেমে এসেছে।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ শ্রেণিকরণে গ্রেস পিরিয়ড ৯ মাস থেকে কমিয়ে তিন মাসে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এর ফলে খেলাপি ঋণ কৃত্রিমভাবে বেড়ে ছয় লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা মোট ঋণের প্রায় ৩৬ শতাংশ।’ তিনি বলেন, ঋণের সুদহার ১৬ থেকে ১৭ শতাংশে পৌঁছানোয় প্রকৃত ব্যবসাগুলো কার্যকরী মূলধনের সংকটে পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে নীতি সুদহার কমানো এবং প্রকৃত ব্যবসার জন্য ভর্তুকিযুক্ত ঋণ সুবিধা চালুর আহবান জানান তিনি। মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও উচ্চ ঋণ ব্যয়ের কারণে ব্যবসা পরিচালনা আরো কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শ্রমবাজার পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশে বর্তমানে প্রায় ২৬ লাখ মানুষ বেকার রয়েছে। কারিগরি শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে। ব্যবসায়ীরা মনে করেন, বেসরকারি খাত চাঙ্গা করা গেলে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং চাঁদাবাজির প্রবণতাও কমে আসবে।

ট্যাগস:

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

চাঁদাবাজি বন্ধে কড়া পদক্ষেপ চান ব্যবসায়ীরা

আপডেট সময় : ১১:২১:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকিন আহমেদ বলেছেন, ব্যবসা পরিচালনার বিভিন্ন পর্যায়ে অনানুষ্ঠানিক অর্থ দিতে হচ্ছে। পুলিশ, সিটি করপোরেশন, আয়কর দপ্তরসহ নানা জায়গায় নিয়মিত অর্থ দিতে হওয়ায় ব্যবসার ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে এবং নতুন বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হচ্ছে।

গতকাল সোমবার রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই কার্যালয়ে ‘বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় নবগঠিত সরকারের কাছে প্রত্যাশা’ শিরোনামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

বর্তমান সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘চাঁদাবাজির পাশাপাশি সরকারি দপ্তরের দুর্নীতি শক্ত হাতে দমন করতে হবে। তা না হলে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কঠিন হবে।’ সরকারি খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তাসকিন আহমেদ বলেন, ‘দুর্নীতি কমেনি বলেই কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ছে না।’

এই ব্যবসায়ী নেতা মনে করেন, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে অনেক ব্যবসায়ী ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হবেন। তাই নতুন সরকারের কাছে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার আহবান জানিয়েছেন তিনি।

তাসকিন আহমেদ বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে ব্যবসায়ীদের যে হারে চাঁদা দিতে হতো, ২০২৪ সালের ৬ আগস্টের পরও একই হারে চাঁদা দিতে হয়েছে; অনেক ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি চাঁদা দিতে হয়েছে। এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সরকারি দপ্তরে দুর্নীতি কমেনি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সংস্কার জরুরি উল্লেখ করে তিনি এনবিআর পৃথকীকরণ ও দ্রুত অটোমেশন সম্পন্ন করার আহবান জানান। কার্যকর উদ্যোগ নিলে আট মাসের মধ্যেই অটোমেশন সম্পন্ন করা সম্ভব বলেও তিনি মন্তব্য করেন। কর কাঠামো সহজ করতে টার্নওভার কর ০.৬ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব দেন তিনি।

ব্যাংকঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কাগজপত্র ও জটিল প্রক্রিয়াকে ব্যবসা সম্প্রসারণের অন্যতম বাধা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বিনিয়োগ সহজ করতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) ‘সিঙ্গেল উইন্ডো’ ব্যবস্থা কার্যকর করার আহবান জানানো হয়। আর্থিক খাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ৬.৪৯ শতাংশে নেমে এসেছে।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ শ্রেণিকরণে গ্রেস পিরিয়ড ৯ মাস থেকে কমিয়ে তিন মাসে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এর ফলে খেলাপি ঋণ কৃত্রিমভাবে বেড়ে ছয় লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা মোট ঋণের প্রায় ৩৬ শতাংশ।’ তিনি বলেন, ঋণের সুদহার ১৬ থেকে ১৭ শতাংশে পৌঁছানোয় প্রকৃত ব্যবসাগুলো কার্যকরী মূলধনের সংকটে পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে নীতি সুদহার কমানো এবং প্রকৃত ব্যবসার জন্য ভর্তুকিযুক্ত ঋণ সুবিধা চালুর আহবান জানান তিনি। মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও উচ্চ ঋণ ব্যয়ের কারণে ব্যবসা পরিচালনা আরো কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শ্রমবাজার পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশে বর্তমানে প্রায় ২৬ লাখ মানুষ বেকার রয়েছে। কারিগরি শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে। ব্যবসায়ীরা মনে করেন, বেসরকারি খাত চাঙ্গা করা গেলে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং চাঁদাবাজির প্রবণতাও কমে আসবে।