ঢাকা ০৮:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ :
পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সেলিম রেজা হাবিবকে সংবর্ধনা ও ফুলেল শুভেচ্ছা সচিবালয় মেট্রো স্টেশনে ৪ কেজি গাঁজাসহ নারী আটক ঢাকা জেলা চালকদলের সভাপতি হিসেবে রেজাউর রহমান সংগ্রাম দায়িত্ব গ্রহণ বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জাতীয়তাবাদী চালক দলের শ্রদ্ধা; গণতন্ত্রের সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রত্যয় ঢাকা-৯ প্রেস টিমে নতুন মুখ: প্রভাষক সুমন প্রেস সেক্রেটারি, সাবেক ছাত্রদল নেতা মৃদুল সহকারী সেনা-নৌ-বিমান বা”হি”নী”র প্রধানদের সঙ্গে নিয়ে মহামান্য রাষ্ট্রপতি সা”ক্ষ”র করেন চাঁদপুরে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ১৫ আলিয়া শিবির সভাপতির দুঃখ প্রকাশ: প্রধানমন্ত্রীর নাম নিয়ে অনভিপ্রেত শব্দচয়ন ও হলের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের দাবি কুমিল্লা বাইপাসে অবৈধ পার্কিংয়ের দৌরাত্ম্য: সড়ক দখলে নিত্য যানজট, চরম দুর্ভোগে হাজারো মানুষ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয়করণে জোরালো চাপ: রাষ্ট্রপতিসহ ১২৯ এমপির ডিও লেটার, দাবি পূরণ না হলে ফের লাগাতার কর্মসূচি

চাঁদাবাজি বন্ধে কড়া পদক্ষেপ চান ব্যবসায়ীরা

আব্দুল হাসিব
  • আপডেট সময় : ১১:২১:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১২৯ বার দেখা হয়েছে

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকিন আহমেদ বলেছেন, ব্যবসা পরিচালনার বিভিন্ন পর্যায়ে অনানুষ্ঠানিক অর্থ দিতে হচ্ছে। পুলিশ, সিটি করপোরেশন, আয়কর দপ্তরসহ নানা জায়গায় নিয়মিত অর্থ দিতে হওয়ায় ব্যবসার ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে এবং নতুন বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হচ্ছে।

গতকাল সোমবার রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই কার্যালয়ে ‘বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় নবগঠিত সরকারের কাছে প্রত্যাশা’ শিরোনামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

বর্তমান সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘চাঁদাবাজির পাশাপাশি সরকারি দপ্তরের দুর্নীতি শক্ত হাতে দমন করতে হবে। তা না হলে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কঠিন হবে।’ সরকারি খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তাসকিন আহমেদ বলেন, ‘দুর্নীতি কমেনি বলেই কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ছে না।’

এই ব্যবসায়ী নেতা মনে করেন, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে অনেক ব্যবসায়ী ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হবেন। তাই নতুন সরকারের কাছে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার আহবান জানিয়েছেন তিনি।

তাসকিন আহমেদ বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে ব্যবসায়ীদের যে হারে চাঁদা দিতে হতো, ২০২৪ সালের ৬ আগস্টের পরও একই হারে চাঁদা দিতে হয়েছে; অনেক ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি চাঁদা দিতে হয়েছে। এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সরকারি দপ্তরে দুর্নীতি কমেনি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সংস্কার জরুরি উল্লেখ করে তিনি এনবিআর পৃথকীকরণ ও দ্রুত অটোমেশন সম্পন্ন করার আহবান জানান। কার্যকর উদ্যোগ নিলে আট মাসের মধ্যেই অটোমেশন সম্পন্ন করা সম্ভব বলেও তিনি মন্তব্য করেন। কর কাঠামো সহজ করতে টার্নওভার কর ০.৬ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব দেন তিনি।

ব্যাংকঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কাগজপত্র ও জটিল প্রক্রিয়াকে ব্যবসা সম্প্রসারণের অন্যতম বাধা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বিনিয়োগ সহজ করতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) ‘সিঙ্গেল উইন্ডো’ ব্যবস্থা কার্যকর করার আহবান জানানো হয়। আর্থিক খাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ৬.৪৯ শতাংশে নেমে এসেছে।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ শ্রেণিকরণে গ্রেস পিরিয়ড ৯ মাস থেকে কমিয়ে তিন মাসে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এর ফলে খেলাপি ঋণ কৃত্রিমভাবে বেড়ে ছয় লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা মোট ঋণের প্রায় ৩৬ শতাংশ।’ তিনি বলেন, ঋণের সুদহার ১৬ থেকে ১৭ শতাংশে পৌঁছানোয় প্রকৃত ব্যবসাগুলো কার্যকরী মূলধনের সংকটে পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে নীতি সুদহার কমানো এবং প্রকৃত ব্যবসার জন্য ভর্তুকিযুক্ত ঋণ সুবিধা চালুর আহবান জানান তিনি। মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও উচ্চ ঋণ ব্যয়ের কারণে ব্যবসা পরিচালনা আরো কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শ্রমবাজার পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশে বর্তমানে প্রায় ২৬ লাখ মানুষ বেকার রয়েছে। কারিগরি শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে। ব্যবসায়ীরা মনে করেন, বেসরকারি খাত চাঙ্গা করা গেলে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং চাঁদাবাজির প্রবণতাও কমে আসবে।

ট্যাগস:

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

চাঁদাবাজি বন্ধে কড়া পদক্ষেপ চান ব্যবসায়ীরা

আপডেট সময় : ১১:২১:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকিন আহমেদ বলেছেন, ব্যবসা পরিচালনার বিভিন্ন পর্যায়ে অনানুষ্ঠানিক অর্থ দিতে হচ্ছে। পুলিশ, সিটি করপোরেশন, আয়কর দপ্তরসহ নানা জায়গায় নিয়মিত অর্থ দিতে হওয়ায় ব্যবসার ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে এবং নতুন বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হচ্ছে।

গতকাল সোমবার রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই কার্যালয়ে ‘বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় নবগঠিত সরকারের কাছে প্রত্যাশা’ শিরোনামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

বর্তমান সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘চাঁদাবাজির পাশাপাশি সরকারি দপ্তরের দুর্নীতি শক্ত হাতে দমন করতে হবে। তা না হলে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কঠিন হবে।’ সরকারি খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তাসকিন আহমেদ বলেন, ‘দুর্নীতি কমেনি বলেই কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ছে না।’

এই ব্যবসায়ী নেতা মনে করেন, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে অনেক ব্যবসায়ী ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হবেন। তাই নতুন সরকারের কাছে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার আহবান জানিয়েছেন তিনি।

তাসকিন আহমেদ বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে ব্যবসায়ীদের যে হারে চাঁদা দিতে হতো, ২০২৪ সালের ৬ আগস্টের পরও একই হারে চাঁদা দিতে হয়েছে; অনেক ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি চাঁদা দিতে হয়েছে। এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সরকারি দপ্তরে দুর্নীতি কমেনি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সংস্কার জরুরি উল্লেখ করে তিনি এনবিআর পৃথকীকরণ ও দ্রুত অটোমেশন সম্পন্ন করার আহবান জানান। কার্যকর উদ্যোগ নিলে আট মাসের মধ্যেই অটোমেশন সম্পন্ন করা সম্ভব বলেও তিনি মন্তব্য করেন। কর কাঠামো সহজ করতে টার্নওভার কর ০.৬ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব দেন তিনি।

ব্যাংকঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কাগজপত্র ও জটিল প্রক্রিয়াকে ব্যবসা সম্প্রসারণের অন্যতম বাধা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বিনিয়োগ সহজ করতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) ‘সিঙ্গেল উইন্ডো’ ব্যবস্থা কার্যকর করার আহবান জানানো হয়। আর্থিক খাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ৬.৪৯ শতাংশে নেমে এসেছে।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ শ্রেণিকরণে গ্রেস পিরিয়ড ৯ মাস থেকে কমিয়ে তিন মাসে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এর ফলে খেলাপি ঋণ কৃত্রিমভাবে বেড়ে ছয় লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা মোট ঋণের প্রায় ৩৬ শতাংশ।’ তিনি বলেন, ঋণের সুদহার ১৬ থেকে ১৭ শতাংশে পৌঁছানোয় প্রকৃত ব্যবসাগুলো কার্যকরী মূলধনের সংকটে পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে নীতি সুদহার কমানো এবং প্রকৃত ব্যবসার জন্য ভর্তুকিযুক্ত ঋণ সুবিধা চালুর আহবান জানান তিনি। মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও উচ্চ ঋণ ব্যয়ের কারণে ব্যবসা পরিচালনা আরো কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শ্রমবাজার পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশে বর্তমানে প্রায় ২৬ লাখ মানুষ বেকার রয়েছে। কারিগরি শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে। ব্যবসায়ীরা মনে করেন, বেসরকারি খাত চাঙ্গা করা গেলে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং চাঁদাবাজির প্রবণতাও কমে আসবে।