ঢাকা ০৮:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ :
টুঙ্গিপাড়ায় জাপানে চাকরির প্রলোভনে ১৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, আদালতে মামলা দায়ের যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জাতীয়তাবাদী চালক দলের শুভেচ্ছা যুবদলের গৌরবময় পথচলার ৪৮ বছর: শুভেচ্ছা জানালেন ছাত্রদল নেতা- তপন জাজিরা থানা পুলিশের অভিযানে VARDS-এর সহযোগিতায় গাজীপুর থেকে সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার তারারদেশ লিমিটেড পরিদর্শনে মালয়েশিয়ার প্রতিনিধি দল ‎ শিশু কল্যাণ পরিষদে চালক দলের সভা; জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে নিহত ও আহত চালক পরিবারের মাঝে অনুদান বিতরণ চাকমারকুল ইউপি নির্বাচনে নতুন সমীকরণ? চেয়ারম্যান পদে আলোচনার কেন্দ্রে আবুবক্কর সিদ্দিক মাসুক ফকিরাপুলে সন্ত্রাসী তাণ্ডব ​মাদকের ‘সুবিধা’ না দেওয়ায় হোটেলে হামলা, মালিকসহ রক্তাক্ত ৪ পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী: ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ সকল জাতিগোষ্ঠীকে জাতীয় মূলধারায় সম্পৃক্ত করার ঐতিহাসিক ভিত্তি

রাজধানীর সায়েদাবাদে চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডের আসামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ

আব্দুল হাসিব
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৩:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
  • / ২৩৩ বার দেখা হয়েছে

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী  থানাধীন সায়েদাবাদে  চাঞ্চল্যকর গৃহবধু হত্যাকাণ্ডে মূল আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রেমের সম্পর্ক, আর্থিক লেনদেন ও বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ মার্চ ২০২৬ বিকেলে যাত্রাবাড়ী থানাধীন সায়েদাবাদ করাতিটোলা এলাকায় একটি ভবনের ছাদে তাসলিমা (৩৪) নামের এক নারীকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। আসামী তার স্বামী মোঃ রশিদ আহমেদ বাপ্পীর সঙ্গে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

ঘটনার দিন বিকেলে অভিযুক্ত আসামী মোঃ আব্দুল্লাহ রাজু (৪১) ভিকটিমের বাসায় গমন এবং ‘জরুরি কথা আছে’ বলে তাকে ছাদে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যরা ছাদে গিয়ে তাসলিমাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহতের বোন সুরভী আক্তার বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পেনাল কোড ১৮৬০-এর ৩০২/৩৪ ধারায় রুজু করা হয়।

তদন্তে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাজুর সঙ্গে তাসলিমার পরিচয় হয় এবং পরবর্তীতে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে ব্যবসার জন্য তাসলিমা রাজুর কাছ থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকা নেন। দীর্ঘ সময়েও টাকা ফেরত না দেওয়ায় তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

ঘটনার দিন টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে রাজু ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাসলিমাকে একাধিকবার আঘাত করে হত্যা করে পালিয়ে যান।

পরে সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। ঘটনাস্থল থেকে তার ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়ে নিজের দোষ স্বীকার করেছেন। মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।

যাত্রাবাড়ী থানার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ট্যাগস:

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

রাজধানীর সায়েদাবাদে চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডের আসামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ

আপডেট সময় : ০৭:৪৩:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী  থানাধীন সায়েদাবাদে  চাঞ্চল্যকর গৃহবধু হত্যাকাণ্ডে মূল আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রেমের সম্পর্ক, আর্থিক লেনদেন ও বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ মার্চ ২০২৬ বিকেলে যাত্রাবাড়ী থানাধীন সায়েদাবাদ করাতিটোলা এলাকায় একটি ভবনের ছাদে তাসলিমা (৩৪) নামের এক নারীকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। আসামী তার স্বামী মোঃ রশিদ আহমেদ বাপ্পীর সঙ্গে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

ঘটনার দিন বিকেলে অভিযুক্ত আসামী মোঃ আব্দুল্লাহ রাজু (৪১) ভিকটিমের বাসায় গমন এবং ‘জরুরি কথা আছে’ বলে তাকে ছাদে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যরা ছাদে গিয়ে তাসলিমাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহতের বোন সুরভী আক্তার বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পেনাল কোড ১৮৬০-এর ৩০২/৩৪ ধারায় রুজু করা হয়।

তদন্তে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাজুর সঙ্গে তাসলিমার পরিচয় হয় এবং পরবর্তীতে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে ব্যবসার জন্য তাসলিমা রাজুর কাছ থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকা নেন। দীর্ঘ সময়েও টাকা ফেরত না দেওয়ায় তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

ঘটনার দিন টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে রাজু ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাসলিমাকে একাধিকবার আঘাত করে হত্যা করে পালিয়ে যান।

পরে সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। ঘটনাস্থল থেকে তার ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়ে নিজের দোষ স্বীকার করেছেন। মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।

যাত্রাবাড়ী থানার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।