ঢাকা ০১:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ :
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ও স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল মারিয়া সিস্তিয়াগা ওচোয়া দে চিনচেত্রু। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের স্পিকারের কার্যালয়ে পৃথক পৃথকভাবে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় দিনের মতো ইসলামী ব্যাংকের সামনে বিক্ষোভ সিলেটের ফাহিমা হত্যার বিচারও দ্রুত চাইলেন জামায়াত আমির খুলনায় যুবককে কুপিয়ে হত্যা, আড়াই মাস আগে গুলি করা হয়েছিল মা–বাবা, স্ত্রী ও ভাইকে তিন মাসের ব্যবধানে ৩১ হাজার কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ বেড়েছে। গত মার্চ শেষে দেশের তফসিলি ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই চিত্র পাওয়া গেছে। হামের উপসর্গে সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ছয় শিশু মারা গেছে। আজ মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ছয় শিশু মৃত্যুর ঘটনায় পোস্টমর্টেম জরুরি। ঘটনার কারণ এখনও তদন্তাধীন। হাসপাতালের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) বন্ধ থাকা, শ্বাসরোধজনিত পরিস্থিতি বা গ্যাস লিকেজ- সবকিছুই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় ৮০ শতাংশ ছাড়ের নির্দেশ দেশের সব বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরীক্ষার (ইনভেস্টিগেশন) খরচে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। **অরাজকতার অপচেষ্টা রুখতে জনগণকে সজাগ থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর **অবৈধ পুশইন-পুশব্যাকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ অবস্থান নিয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী** কর্মীদের কষ্টের টাকা নিয়ে ছিনিমিনি খেললে কাউকে ছাড় নয়: প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী**দাম কমল এলপিজির, ১২ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ৮৮৫ টাকা** আগামী বাজেটের মূল লক্ষ্য দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন: অর্থমন্ত্রী** বিআইডব্লিউটিএ’র নতুন চেয়ারম্যান মুহিদুল ইসলাম**সিআইডির দায়িত্ব পেলেন ডিআইজি আলি আকবর খান** পবিত্র ঈদুল আজহার আগে-পরে মাত্র ১০ দিনে পদ্মা ও যমুনা সেতু পারাপারকারী যানবাহন থেকে প্রায় ৬৪ কোটি (৬৩ কোটি ৮০ লাখ ৫০ হাজার ৮০০) টাকা টোল আদায় করেছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (বাসেক)। রবিবার (৩১ মে) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। খবর বাসস।

**আগামী বছর এসএসসি শুরু ৭ জানুয়ারি, এইচএসসি ৬ জুন**দেশে ভোটার বেড়ে ১২ কোটি ৮৩ লাখ**ঈদে নিরাপদ নৌযাত্রায় ১৪ নির্দেশনা দিল বিআইডব্লিউটিএ**হাতীবান্ধা সীমান্তে বাংলাদেশিকে গুলি করে মারল বিএসএফ**সমুদ্রসৈকতে স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন করবে সরকার : পর্যটনমন্ত্রী** স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছে ইসি**প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন : অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল** সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৫৫,৬৯৩ বাংলাদেশি হজযাত্রী**কোরবানির জন্য প্রস্তুত ১ কোটি পশু : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী** ২০২৬ সালের ভোটার তালিকা প্রকাশ**

Foysal Ahmed
  • আপডেট সময় : ০৪:১৪:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
  • / ২২ বার দেখা হয়েছে

আ ও রূপগঞ্জে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বড় অভিযান: ‘হেরোইন সম্রাজ্ঞী’ ও ‘ইয়াবা সম্রাট’ গ্রেপ্তার

রাজধানীর ডেমরা এবং নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পৃথক দুটি ঝটিকা অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ কুখ্যাত এক নারী মাদক কারবারি এবং এক মাদক সম্রাটকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (DNC)। অভিযানে মোট ২০ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা, ৪০০ গ্রাম হেরোইন এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
অভিযানের বিবরণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ের উত্তরা সার্কেল টিম আজ রোববার (৫ এপ্রিল) দিনব্যাপী এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অধিদপ্তরের পরিদর্শক দেওয়ান মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন।
১. ডেমরা অভিযান: বিকেল ৫টার দিকে ডেমরা থানাধীন পূর্ব ডগাইর এলাকার একটি চারতলা ভবনে অভিযান চালিয়ে হোসনে আরা বেগম (৩৮) নামের একজনকে আটক করা হয়। এলাকায় তিনি ‘হেরোইন সম্রাজ্ঞী’ হিসেবে পরিচিত। তার কাছ থেকে ৪০০ গ্রাম হেরোইন ও ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
২. রূপগঞ্জ অভিযান: আটক হোসনে আরার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানাধীন চনপাড়া বটতলা এলাকায় অপর একটি অভিযান চালানো হয়। সেখানে সাগর আহম্মেদের বাড়ির ভাড়াটিয়া মো. ইদ্রিস (৪৫) এর ফ্ল্যাট থেকে ২০ হাজার পিস ইয়াবাসহ তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
আটককৃতদের পরিচয়
• হোসনে আরা বেগম (৩৮): স্বামী- আবু তাহের। স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম- চারগাঁও, শ্রীনগর, মুন্সিগঞ্জ।
• মো. ইদ্রিস (৪৫): পিতা- অজ্ঞাত (স্থায়ী সাং- দৌয়াপাড়া, দাউদকান্দি, কুমিল্লা)। তিনি এলাকায় ‘ইয়াবা সম্রাট’ নামে পরিচিত।
উদ্ধারকৃত আলামত একনজরেআলামতের নাম পরিমাণ
ইয়াবা ২০,৫০০ পিস
হেরোইন ৪০০ গ্রাম
নগদ টাকা ৫০,০০০ টাকা
মোবাইল ফোন ০২টি

মাদকের রুট ও হুন্ডি কানেকশন
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেছে এই মাদক চক্রটি। জানা গেছে:
• হোসনে আরা বেগম যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে হেরোইন সংগ্রহ করে পুরান ঢাকার দয়াগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় পাইকারি সরবরাহ করতেন।
• অন্যদিকে, ইদ্রিস কুমিল্লা সীমান্ত ব্যবহার করে ইয়াবা চোরাচালান করে চনপাড়া ও ঢাকার বিভিন্ন স্পটে পৌঁছে দিতেন।
• সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো, তারা এই মাদকের টাকা পরিশোধ করতেন অবৈধ হুন্ডির মাধ্যমে।
আইনি ব্যবস্থা
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, যেহেতু মাদক উদ্ধারের স্থান ভিন্ন, তাই গ্রেপ্তারকৃত দুজনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। মাদকের মূল হোতাদের নির্মূল করতে এই ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

 

 

সুজানগর ও আমিনপুরে মাদক ও অনলাইন জুয়ার মহোৎসব: ধ্বংসের মুখে যুবসমাজ, নির্বিকার প্রশাসন

| পাবনা: প্রতিনিধি

পাবনার সুজানগর ও আমিনপুর থানা এলাকার প্রতিটি জনপদ এখন মাদক আর অনলাইন জুয়ার বিষাক্ত থাবায় আক্রান্ত। হাত বাড়ালেই মিলছে ইয়াবা, আর স্মার্টফোনের আড়ালে ঘরে ঘরে ঢুকে পড়েছে অনলাইন জুয়া। এই দ্বিমুখী মরণনেশায় একদিকে যেমন তছনছ হচ্ছে শত শত পরিবার, অন্যদিকে বাড়ছে চুরি, ছিনতাইসহ নানা সামাজিক অপরাধ। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের নীরব ভূমিকা এই অপরাধ চক্রকে আরও বেপরোয়া করে তুলেছে।
ইয়াবার নীল দংশন
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সুজানগর পৌরসভা থেকে শুরু করে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন এবং পার্শ্ববর্তী আমিনপুর থানার নির্জন ও জনবহুল—উভয় এলাকাতেই ইয়াবার রমরমা ব্যবসা চলছে। বিশেষ করে তরুণ ও কিশোরদের লক্ষ্য করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, চিহ্নিত কিছু অসাধু ব্যক্তি এই কারবার নিয়ন্ত্রণ করলেও তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পায় না কেউ। সন্ধ্যার পর বিভিন্ন মোড়ে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আড়ালে এবং নির্জন বাঁশঝাড়ে বসে ইয়াবা সেবনের আসর।
অনলাইন জুয়ার নতুন আতঙ্ক
মাদকের পাশাপাশি বর্তমানে নতুন উৎপাত হিসেবে যোগ হয়েছে ‘অনলাইন জুয়া’। বিভিন্ন অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অল্প সময়ে কোটিপতি হওয়ার লোভে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছে হাজারো যুবক। নিম্নবিত্ত থেকে শুরু করে অবস্থাপন্ন পরিবারের সন্তানরাও এই মরণনেশায় আসক্ত। অনলাইন জুয়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে অনেক তরুণ পারিবারিক কলহ থেকে শুরু করে আত্মহত্যার পথ পর্যন্ত বেছে নিচ্ছে।
ধ্বংসের মুখে যুবসমাজ ও অতিষ্ঠ জনজীবন
এলাকার সচেতন নাগরিক ও অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আগে মাদক কেবল নির্দিষ্ট কিছু মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন তা মহামারীর রূপ নিয়েছে। এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
“আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ এখন অন্ধকার। প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব চললেও কোনো স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। মাঝেমধ্যে দু-একজন ধরা পড়লেও মূল হোতারা সবসময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়।”
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
এলাকাবাসীর প্রধান অভিযোগ প্রশাসনের ‘নিশ্চুপ’ ভূমিকা নিয়ে। সাধারণ মানুষের ধারণা, পুলিশের সোর্স পরিচয়ধারী কিছু ব্যক্তি এবং প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এই অপরাধের সাম্রাজ্য বিস্তৃত হচ্ছে। থানা পুলিশের নিয়মিত অভিযান না থাকায় মাদক ব্যবসায়ী ও জুয়াড়িরা অনেকটা প্রকাশ্যে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। এলাকার মানুষ এখন একপ্রকার আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে—কখন কার সন্তান এই ধ্বংসের পথে পা বাড়ায়।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। তারা মনে করেন, সুজানগর ও আমিনপুর থানাকে মাদকমুক্ত করতে হলে কেবল লোকদেখানো অভিযান নয়, বরং তৃণমূল পর্যায়ে মাদক সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে এবং অনলাইন জুয়াড়িদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে সুজানগর ও আমিনপুরের এই জনপদ অচিরেই মেধা ও জনশক্তি হারিয়ে এক গভীর সংকটে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

ট্যাগস:

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

**আগামী বছর এসএসসি শুরু ৭ জানুয়ারি, এইচএসসি ৬ জুন**দেশে ভোটার বেড়ে ১২ কোটি ৮৩ লাখ**ঈদে নিরাপদ নৌযাত্রায় ১৪ নির্দেশনা দিল বিআইডব্লিউটিএ**হাতীবান্ধা সীমান্তে বাংলাদেশিকে গুলি করে মারল বিএসএফ**সমুদ্রসৈকতে স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন করবে সরকার : পর্যটনমন্ত্রী** স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছে ইসি**প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন : অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল** সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৫৫,৬৯৩ বাংলাদেশি হজযাত্রী**কোরবানির জন্য প্রস্তুত ১ কোটি পশু : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী** ২০২৬ সালের ভোটার তালিকা প্রকাশ**

আপডেট সময় : ০৪:১৪:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

আ ও রূপগঞ্জে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বড় অভিযান: ‘হেরোইন সম্রাজ্ঞী’ ও ‘ইয়াবা সম্রাট’ গ্রেপ্তার

রাজধানীর ডেমরা এবং নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পৃথক দুটি ঝটিকা অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ কুখ্যাত এক নারী মাদক কারবারি এবং এক মাদক সম্রাটকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (DNC)। অভিযানে মোট ২০ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা, ৪০০ গ্রাম হেরোইন এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
অভিযানের বিবরণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ের উত্তরা সার্কেল টিম আজ রোববার (৫ এপ্রিল) দিনব্যাপী এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অধিদপ্তরের পরিদর্শক দেওয়ান মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন।
১. ডেমরা অভিযান: বিকেল ৫টার দিকে ডেমরা থানাধীন পূর্ব ডগাইর এলাকার একটি চারতলা ভবনে অভিযান চালিয়ে হোসনে আরা বেগম (৩৮) নামের একজনকে আটক করা হয়। এলাকায় তিনি ‘হেরোইন সম্রাজ্ঞী’ হিসেবে পরিচিত। তার কাছ থেকে ৪০০ গ্রাম হেরোইন ও ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
২. রূপগঞ্জ অভিযান: আটক হোসনে আরার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানাধীন চনপাড়া বটতলা এলাকায় অপর একটি অভিযান চালানো হয়। সেখানে সাগর আহম্মেদের বাড়ির ভাড়াটিয়া মো. ইদ্রিস (৪৫) এর ফ্ল্যাট থেকে ২০ হাজার পিস ইয়াবাসহ তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
আটককৃতদের পরিচয়
• হোসনে আরা বেগম (৩৮): স্বামী- আবু তাহের। স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম- চারগাঁও, শ্রীনগর, মুন্সিগঞ্জ।
• মো. ইদ্রিস (৪৫): পিতা- অজ্ঞাত (স্থায়ী সাং- দৌয়াপাড়া, দাউদকান্দি, কুমিল্লা)। তিনি এলাকায় ‘ইয়াবা সম্রাট’ নামে পরিচিত।
উদ্ধারকৃত আলামত একনজরেআলামতের নাম পরিমাণ
ইয়াবা ২০,৫০০ পিস
হেরোইন ৪০০ গ্রাম
নগদ টাকা ৫০,০০০ টাকা
মোবাইল ফোন ০২টি

মাদকের রুট ও হুন্ডি কানেকশন
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেছে এই মাদক চক্রটি। জানা গেছে:
• হোসনে আরা বেগম যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে হেরোইন সংগ্রহ করে পুরান ঢাকার দয়াগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় পাইকারি সরবরাহ করতেন।
• অন্যদিকে, ইদ্রিস কুমিল্লা সীমান্ত ব্যবহার করে ইয়াবা চোরাচালান করে চনপাড়া ও ঢাকার বিভিন্ন স্পটে পৌঁছে দিতেন।
• সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো, তারা এই মাদকের টাকা পরিশোধ করতেন অবৈধ হুন্ডির মাধ্যমে।
আইনি ব্যবস্থা
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, যেহেতু মাদক উদ্ধারের স্থান ভিন্ন, তাই গ্রেপ্তারকৃত দুজনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। মাদকের মূল হোতাদের নির্মূল করতে এই ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

 

 

সুজানগর ও আমিনপুরে মাদক ও অনলাইন জুয়ার মহোৎসব: ধ্বংসের মুখে যুবসমাজ, নির্বিকার প্রশাসন

| পাবনা: প্রতিনিধি

পাবনার সুজানগর ও আমিনপুর থানা এলাকার প্রতিটি জনপদ এখন মাদক আর অনলাইন জুয়ার বিষাক্ত থাবায় আক্রান্ত। হাত বাড়ালেই মিলছে ইয়াবা, আর স্মার্টফোনের আড়ালে ঘরে ঘরে ঢুকে পড়েছে অনলাইন জুয়া। এই দ্বিমুখী মরণনেশায় একদিকে যেমন তছনছ হচ্ছে শত শত পরিবার, অন্যদিকে বাড়ছে চুরি, ছিনতাইসহ নানা সামাজিক অপরাধ। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের নীরব ভূমিকা এই অপরাধ চক্রকে আরও বেপরোয়া করে তুলেছে।
ইয়াবার নীল দংশন
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সুজানগর পৌরসভা থেকে শুরু করে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন এবং পার্শ্ববর্তী আমিনপুর থানার নির্জন ও জনবহুল—উভয় এলাকাতেই ইয়াবার রমরমা ব্যবসা চলছে। বিশেষ করে তরুণ ও কিশোরদের লক্ষ্য করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, চিহ্নিত কিছু অসাধু ব্যক্তি এই কারবার নিয়ন্ত্রণ করলেও তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পায় না কেউ। সন্ধ্যার পর বিভিন্ন মোড়ে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আড়ালে এবং নির্জন বাঁশঝাড়ে বসে ইয়াবা সেবনের আসর।
অনলাইন জুয়ার নতুন আতঙ্ক
মাদকের পাশাপাশি বর্তমানে নতুন উৎপাত হিসেবে যোগ হয়েছে ‘অনলাইন জুয়া’। বিভিন্ন অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অল্প সময়ে কোটিপতি হওয়ার লোভে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছে হাজারো যুবক। নিম্নবিত্ত থেকে শুরু করে অবস্থাপন্ন পরিবারের সন্তানরাও এই মরণনেশায় আসক্ত। অনলাইন জুয়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে অনেক তরুণ পারিবারিক কলহ থেকে শুরু করে আত্মহত্যার পথ পর্যন্ত বেছে নিচ্ছে।
ধ্বংসের মুখে যুবসমাজ ও অতিষ্ঠ জনজীবন
এলাকার সচেতন নাগরিক ও অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আগে মাদক কেবল নির্দিষ্ট কিছু মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন তা মহামারীর রূপ নিয়েছে। এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
“আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ এখন অন্ধকার। প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব চললেও কোনো স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। মাঝেমধ্যে দু-একজন ধরা পড়লেও মূল হোতারা সবসময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়।”
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
এলাকাবাসীর প্রধান অভিযোগ প্রশাসনের ‘নিশ্চুপ’ ভূমিকা নিয়ে। সাধারণ মানুষের ধারণা, পুলিশের সোর্স পরিচয়ধারী কিছু ব্যক্তি এবং প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এই অপরাধের সাম্রাজ্য বিস্তৃত হচ্ছে। থানা পুলিশের নিয়মিত অভিযান না থাকায় মাদক ব্যবসায়ী ও জুয়াড়িরা অনেকটা প্রকাশ্যে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। এলাকার মানুষ এখন একপ্রকার আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে—কখন কার সন্তান এই ধ্বংসের পথে পা বাড়ায়।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। তারা মনে করেন, সুজানগর ও আমিনপুর থানাকে মাদকমুক্ত করতে হলে কেবল লোকদেখানো অভিযান নয়, বরং তৃণমূল পর্যায়ে মাদক সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে এবং অনলাইন জুয়াড়িদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে সুজানগর ও আমিনপুরের এই জনপদ অচিরেই মেধা ও জনশক্তি হারিয়ে এক গভীর সংকটে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।