ঢাকা ০৮:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ :
টুঙ্গিপাড়ায় জাপানে চাকরির প্রলোভনে ১৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, আদালতে মামলা দায়ের যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জাতীয়তাবাদী চালক দলের শুভেচ্ছা যুবদলের গৌরবময় পথচলার ৪৮ বছর: শুভেচ্ছা জানালেন ছাত্রদল নেতা- তপন জাজিরা থানা পুলিশের অভিযানে VARDS-এর সহযোগিতায় গাজীপুর থেকে সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার তারারদেশ লিমিটেড পরিদর্শনে মালয়েশিয়ার প্রতিনিধি দল ‎ শিশু কল্যাণ পরিষদে চালক দলের সভা; জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে নিহত ও আহত চালক পরিবারের মাঝে অনুদান বিতরণ চাকমারকুল ইউপি নির্বাচনে নতুন সমীকরণ? চেয়ারম্যান পদে আলোচনার কেন্দ্রে আবুবক্কর সিদ্দিক মাসুক ফকিরাপুলে সন্ত্রাসী তাণ্ডব ​মাদকের ‘সুবিধা’ না দেওয়ায় হোটেলে হামলা, মালিকসহ রক্তাক্ত ৪ পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী: ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ সকল জাতিগোষ্ঠীকে জাতীয় মূলধারায় সম্পৃক্ত করার ঐতিহাসিক ভিত্তি

৪৪তম/৪৫তম বিসিএস ও সরকারি চাকরি জালিয়াতি: সুপারিশপ্রাপ্ত কর কর্মকর্তা ও প্রক্সি চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার

আব্দুল হাসিব
  • আপডেট সময় : ০৭:০৩:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৯৩ বার দেখা হয়েছে

প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে অন্যের হয়ে প্রক্সি পরীক্ষা দিয়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার সংঘবদ্ধ চক্রের মূল হোতাদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আলোচিত এই চক্রের সঙ্গে জড়িত এবং ৪৫তম বিসিএসে সমবায় ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত এক কর কর্মকর্তা ও বিসিএস ক্যাডারসহ মোট তিন সরকারি চাকরিজীবীকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি নোয়াখালী জেলা ইউনিট।

৩০ জুলাই ২০২৬ তারিখে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মাতারবাড়ী এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। ৩১ জুলাই ২০২৬ তারিখে তাদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

৩ জন গ্রেফতারকৃত আসামির পরিচয়

১. নুরন্নবী (৫৫) – অফিস সহায়ক, কর অঞ্চল-২ (বিভাগীয় কর কমিশনারের কার্যালয়, আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম)। পিতা: মোজাফা মুন্সী, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী। ২. মোঃ সোহেল (৪০) – অফিস সহায়ক, কর অঞ্চল-২ (আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম)। পিতা: মোঃ আবুল কালাম, লক্ষ্মীপুর সদর, লক্ষ্মীপুর। ৩. জুলফিকার আলী ওরফে রায়হান (২৯) – জুনিয়র সহকারী ব্যবস্থাপক, মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প (সম্প্রতি ৪৫তম বিসিএসে সমবায় ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত)। পিতা: সাইফুল্লাহ্ বেলাল, হাতিয়া, নোয়াখালী।

এ নিয়ে এই চাঞ্চল্যকর মামলায় মোট ছয়জন এজাহারনামীয় আসামিকে গ্রেফতার করল সিআইডি।

ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে

  • নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও পরীক্ষা: অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের অনুমোদনক্রমে কর অঞ্চল-নোয়াখালীতে গ্রেড-১৩ থেকে গ্রেড-২০ পর্যন্ত বিভিন্ন পদে জনবল নিয়োগের লক্ষ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। গত ৫ জুন ২০২৬ তারিখে নোয়াখালীর ৩টি কেন্দ্রে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

  • প্রাথমিক নির্বাচন: লিখিত, ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে ১১২ জন প্রার্থীকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয় এবং ২১ জুন ২০২৬ তারিখে যোগদানের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ডাকা হয়।

  • জালিয়াতি ধরা পড়া: যোগদানের দিন কাগজপত্র যাচাইয়ের সময় অফিস সহায়ক পদে মনোনীত মোঃ কামাল উদ্দিন এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে মনোনীত মোঃ নাসফুরুল্লাহ-এর স্বহস্তে লিখিত তথ্যের সঙ্গে মৌখিক পরীক্ষার চেকলিস্টের হাতের লেখায় স্পষ্ট অমিল পাওয়া যায়।

  • স্বীকারোক্তি: পরবর্তীতে সন্দেহ হলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তারা স্বীকার করেন যে, তারা নিজেরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেননি; তাদের পরিবর্তে অন্য কেউ প্রক্সি পরীক্ষা দিয়েছেন। ২২ জুন পুনরায় যাচাইয়ের সময় আরেক প্রার্থী মোঃ সুজনের লেখায়ও অমিল ধরা পড়ে (তার সঙ্গে থাকা রাশেদ উদ্দিন পালিয়ে যান)।

মামলার বিবরণ ও সিআইডির তদন্ত কার্যক্রম

প্রাথমিকভাবে জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ার পর গত ২২ জুন ২০২৬ তারিখে নোয়াখালীর সুধারাম মডেল থানায় তিন প্রার্থীর বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা (মামলা নং-৪৫, ধারা: ৪১৯/৪২০/৪৬৮/৪৭১/১০৯/৩৪ পেনাল কোড) রুজু করা হয় এবং তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

ঘটনার গুরুত্ব ও ব্যাপকতা বিবেচনায় সিআইডি নোয়াখালী জেলা ইউনিট শুরু থেকেই মামলাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে মামলাটি সিআইডির তফসিলভুক্ত হলে তদন্তভার গ্রহণ করে সিআইডি।

সিআইডির সফল অভিযান ও গ্রেফতার

গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্য এবং তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সিআইডি জানতে পারে, একটি সুসংগঠিত চক্র দীর্ঘদিন ধরে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে আসল প্রার্থীর পরিবর্তে মেধাবী বা ভাড়া করা প্রক্সি পরীক্ষার্থী বসিয়ে সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।

এই তথ্যের ভিত্তিতে ৩০ জুলাই ২০২৬ তারিখে সিআইডি সফল অভিযান পরিচালনা করে:

  • চট্টগ্রামের আগ্রাবাদস্থ কর অঞ্চল-২ কার্যালয় থেকে নুরন্নবী ও মো. সোহেলকে গ্রেফতার করা হয়।

  • কক্সবাজারের মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে পালিয়ে যাওয়ার সময় জুলফিকার আলী ওরফে রায়হানকে গ্রেফতার করা হয়।

বর্তমান পরিস্থিতি

গ্রেফতারকৃত তিন আসামিকে ৩১ জুলাই ২০২৬ তারিখে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এই সংঘবদ্ধ জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য হোতাদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে সিআইডির সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগস:

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

৪৪তম/৪৫তম বিসিএস ও সরকারি চাকরি জালিয়াতি: সুপারিশপ্রাপ্ত কর কর্মকর্তা ও প্রক্সি চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার

আপডেট সময় : ০৭:০৩:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে অন্যের হয়ে প্রক্সি পরীক্ষা দিয়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার সংঘবদ্ধ চক্রের মূল হোতাদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আলোচিত এই চক্রের সঙ্গে জড়িত এবং ৪৫তম বিসিএসে সমবায় ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত এক কর কর্মকর্তা ও বিসিএস ক্যাডারসহ মোট তিন সরকারি চাকরিজীবীকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি নোয়াখালী জেলা ইউনিট।

৩০ জুলাই ২০২৬ তারিখে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মাতারবাড়ী এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। ৩১ জুলাই ২০২৬ তারিখে তাদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

৩ জন গ্রেফতারকৃত আসামির পরিচয়

১. নুরন্নবী (৫৫) – অফিস সহায়ক, কর অঞ্চল-২ (বিভাগীয় কর কমিশনারের কার্যালয়, আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম)। পিতা: মোজাফা মুন্সী, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী। ২. মোঃ সোহেল (৪০) – অফিস সহায়ক, কর অঞ্চল-২ (আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম)। পিতা: মোঃ আবুল কালাম, লক্ষ্মীপুর সদর, লক্ষ্মীপুর। ৩. জুলফিকার আলী ওরফে রায়হান (২৯) – জুনিয়র সহকারী ব্যবস্থাপক, মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প (সম্প্রতি ৪৫তম বিসিএসে সমবায় ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত)। পিতা: সাইফুল্লাহ্ বেলাল, হাতিয়া, নোয়াখালী।

এ নিয়ে এই চাঞ্চল্যকর মামলায় মোট ছয়জন এজাহারনামীয় আসামিকে গ্রেফতার করল সিআইডি।

ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে

  • নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও পরীক্ষা: অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের অনুমোদনক্রমে কর অঞ্চল-নোয়াখালীতে গ্রেড-১৩ থেকে গ্রেড-২০ পর্যন্ত বিভিন্ন পদে জনবল নিয়োগের লক্ষ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। গত ৫ জুন ২০২৬ তারিখে নোয়াখালীর ৩টি কেন্দ্রে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

  • প্রাথমিক নির্বাচন: লিখিত, ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে ১১২ জন প্রার্থীকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয় এবং ২১ জুন ২০২৬ তারিখে যোগদানের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ডাকা হয়।

  • জালিয়াতি ধরা পড়া: যোগদানের দিন কাগজপত্র যাচাইয়ের সময় অফিস সহায়ক পদে মনোনীত মোঃ কামাল উদ্দিন এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে মনোনীত মোঃ নাসফুরুল্লাহ-এর স্বহস্তে লিখিত তথ্যের সঙ্গে মৌখিক পরীক্ষার চেকলিস্টের হাতের লেখায় স্পষ্ট অমিল পাওয়া যায়।

  • স্বীকারোক্তি: পরবর্তীতে সন্দেহ হলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তারা স্বীকার করেন যে, তারা নিজেরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেননি; তাদের পরিবর্তে অন্য কেউ প্রক্সি পরীক্ষা দিয়েছেন। ২২ জুন পুনরায় যাচাইয়ের সময় আরেক প্রার্থী মোঃ সুজনের লেখায়ও অমিল ধরা পড়ে (তার সঙ্গে থাকা রাশেদ উদ্দিন পালিয়ে যান)।

মামলার বিবরণ ও সিআইডির তদন্ত কার্যক্রম

প্রাথমিকভাবে জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ার পর গত ২২ জুন ২০২৬ তারিখে নোয়াখালীর সুধারাম মডেল থানায় তিন প্রার্থীর বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা (মামলা নং-৪৫, ধারা: ৪১৯/৪২০/৪৬৮/৪৭১/১০৯/৩৪ পেনাল কোড) রুজু করা হয় এবং তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

ঘটনার গুরুত্ব ও ব্যাপকতা বিবেচনায় সিআইডি নোয়াখালী জেলা ইউনিট শুরু থেকেই মামলাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে মামলাটি সিআইডির তফসিলভুক্ত হলে তদন্তভার গ্রহণ করে সিআইডি।

সিআইডির সফল অভিযান ও গ্রেফতার

গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্য এবং তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সিআইডি জানতে পারে, একটি সুসংগঠিত চক্র দীর্ঘদিন ধরে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে আসল প্রার্থীর পরিবর্তে মেধাবী বা ভাড়া করা প্রক্সি পরীক্ষার্থী বসিয়ে সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।

এই তথ্যের ভিত্তিতে ৩০ জুলাই ২০২৬ তারিখে সিআইডি সফল অভিযান পরিচালনা করে:

  • চট্টগ্রামের আগ্রাবাদস্থ কর অঞ্চল-২ কার্যালয় থেকে নুরন্নবী ও মো. সোহেলকে গ্রেফতার করা হয়।

  • কক্সবাজারের মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে পালিয়ে যাওয়ার সময় জুলফিকার আলী ওরফে রায়হানকে গ্রেফতার করা হয়।

বর্তমান পরিস্থিতি

গ্রেফতারকৃত তিন আসামিকে ৩১ জুলাই ২০২৬ তারিখে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এই সংঘবদ্ধ জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য হোতাদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে সিআইডির সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।