যাত্রাবাড়ীতে লিটন ট্রাভেলসের বাসে অভিযান: ১৬ হাজার পিস ইয়াবাসহ কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী বাবু গ্রেফতার
- আপডেট সময় : ০৩:১৯:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
- / ১৩ বার দেখা হয়েছে
রাজিবুল হক রনি
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে ১৬ হাজার পিস ইয়াবাসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী মোঃ বাবুল হোসেন ওরফে বাবুকে (৪৫) গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে যাত্রাবাড়ী থানাধীন ধোলাইপাড় গোলচত্ত্বর সংলগ্ন নাসির উদ্দিন সর্দার মার্কেটের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
ডিএনসি জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত ইয়াবার সাথে মাদক চালানের কাজে ব্যবহৃত ১টি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত বাবুল হোসেন ঢাকার কেরাণীগঞ্জের আঁটি এলাকার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে সে যশোরে স্থায়ীভাবে বসবাস করছিল।
ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জনাব মোস্তাক আহমেদের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ দল এই অভিযান পরিচালনা করে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন যে, ঢাকা থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবার একটি চালান নিয়ে লিটন ট্রাভেলসের একটি বাস যশোরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে ধোলাইপাড় এলাকায় বাসটি থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় সাধারণ যাত্রীর ছদ্মবেশে থাকা বাবুল হোসেনকে আটক করে তার হাতের শপিং ব্যাগ থেকে স্কচটেপ ও টিস্যু দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় ১৬ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত বাবু জানায়, দেশের প্রধান প্রধান মহাসড়কগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারি থাকায় সে রুট পরিবর্তন করে এই পথে ইয়াবা পাচার করছিল। সে প্রথমে কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে ঢাকার কেরাণীগঞ্জে ইয়াবার চালান নিয়ে আসতো। এরপর ঢাকা থেকে বাসে করে তা যশোরে নিয়ে যাওয়া হতো। যশোরকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে পরবর্তীতে খুলনা, রাজশাহী, রংপুর ও বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানীয় ডিলারদের কাছে এই ইয়াবা পাইকারি সরবরাহ করা হতো। ইতিপূর্বেও সে এভাবে বেশ কয়েকটি বড় ইয়াবার চালান পাচার করেছে বলে স্বীকার করেছে।
ডিএনসি জানায়, এই ঘটনায় ডিএমপির যাত্রাবাড়ী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় উপপরিদর্শক মোঃ আবু নাসের বাদী হয়ে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকের বিস্তার রোধে রাজধানীসহ দেশব্যাপী তাদের এই বিশেষ অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হবে। এই চক্রের সাথে জড়িত অন্য সদস্যদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।







