বাল্যবিবাহহীন সমাজ গঠনে তারুণ্যের অঙ্গীকার: ACMO-র নতুন নেতৃত্বে আসছে গতিশীলতা
- আপডেট সময় : ১০:২৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
- / ৪৮ বার দেখা হয়েছে
ক্রাইম রিপোর্টার । হাসিবুল ইসলাম।
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘অ্যান্টি চাইল্ড ম্যারেজ অর্গানাইজেশন’ (ACMO) ২০২৬–২০২৭ মেয়াদের নতুন কেন্দ্রীয় বোর্ড ও বিভাগীয় নেতৃত্বের তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে। নতুন এই নেতৃত্বের মাধ্যমে সংগঠনটি দেশব্যাপী শিশু বিবাহ প্রতিরোধ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং তরুণদের সম্পৃক্ত করে একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছে। সংগঠন সূত্রে জানা যায়, এবারের কেন্দ্রীয় কাঠামোতে মোট ২৩ জন সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে ৭ সদস্যের কেন্দ্রীয় বোর্ড এবং ৪টি বিভাগে ১৬ জন বিভাগীয় পরিচালক দায়িত্ব পালন করবেন। দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের ভিত্তিতে এই দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে, যা সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত, কার্যকর ও গতিশীল করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।
ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় বোর্ডে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন আব্দুল্লাহ আল শিহাব। এ ছাড়া সহ-সভাপতি হিসেবে হৃদ্ধিকা চাকমা, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মোঃ ফাহিম ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মাহিন আলম আম্মান, অর্থ সম্পাদক হিসেবে জাবিন তাসমিন এবং নির্বাহী সদস্য হিসেবে মোঃ শোয়াইব তালুকদার ও হৃদিকা রায় অর্পিতা দায়িত্ব পেয়েছেন।
অন্যদিকে, সংগঠনের ৪টি বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন—
-
যোগাযোগ ও সমন্বয় বিভাগ (CCD): বিভাগীয় প্রধান ইহাদুল ইসলাম জিদান। সদস্য হিসেবে রয়েছেন জারিফ আল জয়, মুশফিকা তাসনিন জাফিন ও মুনতাসির মাহমুদ।
-
আইটি ও মিডিয়া বিভাগ (IMD): বিভাগীয় প্রধান মোঃ এবনুল হোসেন রাহাত। সদস্য হিসেবে রয়েছেন সোহাইল আহমেদ, আব্দুল্লাহ আল মামুন ও মাহির আহনাফ প্রতীক।
-
নারী ও শিশু কল্যাণ বিভাগ (WCWD): বিভাগীয় প্রধান নাজিয়া তাসনিম। সদস্য হিসেবে রয়েছেন মুনিরা মুক্তি, এলমা আক্তার ও জামিউল হাসান আরাফ।
-
অ্যাডভোকেসি ও সচেতনতা বিভাগ (AAD): বিভাগীয় প্রধান অয়ন বসু। সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মোঃ এম. হাসান সরকার, আবিদ হাসান ও মোঃ নাদিম মাহমুদ।
সংগঠনের পটভূমি ও লক্ষ্য: সংগঠনটির জন্মের পেছনে রয়েছে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে মাত্র ১৪ বছর বয়সী অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী নূর নাহার বাল্যবিবাহের শিকার হয়ে অমানবিক নির্যাতনের ফলে মৃত্যুবরণ করেন। পড়াশোনা করে নিজের জীবন গড়ার স্বপ্ন দেখা একটি কিশোরীর এমন মর্মান্তিক পরিণতি সমাজকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই একদল সচেতন ও প্রতিবাদী তরুণ শিশু বিবাহের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালের ১৩ মার্চ “বাল্যবিয়ে মুক্ত বাংলাদেশ গড়া” স্লোগানকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ACMO।
সংগঠনটির প্রধান লক্ষ্য হলো শিশু বিবাহের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ঝুঁকিপূর্ণ শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, তরুণদের সম্পৃক্ত করে একটি টেকসই সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা এবং কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি, প্রশিক্ষণ, ক্যাম্পেইন ও ডিজিটাল অ্যাডভোকেসি পরিচালনা করা। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অংশীজন, নীতিনির্ধারক ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে শিশু বিবাহ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা।
বর্তমানে ACMO দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সচেতনতামূলক কার্যক্রম, কমিউনিটি আউটরিচ, ডিজিটাল ক্যাম্পেইন এবং যুব নেতৃত্ব বিকাশমূলক নানা উদ্যোগ পরিচালনা করছে। ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংগঠনটি জানিয়েছে।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ দৃঢ়কণ্ঠে বলেন, “বাল্যবিয়ে কোনো সংস্কৃতি নয়; এটি একটি সামাজিক অপরাধ।” এই অপরাধমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দেশের প্রতিটি তরুণ, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করে যেতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নতুন কেন্দ্রীয় বোর্ড ও বিভাগীয় নেতৃত্বের সমন্বয়ে আগামী দিনে শিশু বিবাহ প্রতিরোধে সংগঠনটি আরও শক্তিশালী ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।






















