ঢাকা ০৯:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ :
টুঙ্গিপাড়ায় জাপানে চাকরির প্রলোভনে ১৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, আদালতে মামলা দায়ের যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জাতীয়তাবাদী চালক দলের শুভেচ্ছা যুবদলের গৌরবময় পথচলার ৪৮ বছর: শুভেচ্ছা জানালেন ছাত্রদল নেতা- তপন জাজিরা থানা পুলিশের অভিযানে VARDS-এর সহযোগিতায় গাজীপুর থেকে সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার তারারদেশ লিমিটেড পরিদর্শনে মালয়েশিয়ার প্রতিনিধি দল ‎ শিশু কল্যাণ পরিষদে চালক দলের সভা; জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে নিহত ও আহত চালক পরিবারের মাঝে অনুদান বিতরণ চাকমারকুল ইউপি নির্বাচনে নতুন সমীকরণ? চেয়ারম্যান পদে আলোচনার কেন্দ্রে আবুবক্কর সিদ্দিক মাসুক ফকিরাপুলে সন্ত্রাসী তাণ্ডব ​মাদকের ‘সুবিধা’ না দেওয়ায় হোটেলে হামলা, মালিকসহ রক্তাক্ত ৪ পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী: ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ সকল জাতিগোষ্ঠীকে জাতীয় মূলধারায় সম্পৃক্ত করার ঐতিহাসিক ভিত্তি

ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসনে ত্রিমুখী উদ্যোগ

আব্দুল হাসিব
  • আপডেট সময় : ১২:১৪:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১২৩ বার দেখা হয়েছে

রাজধানীতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ত্রিমুখী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। ডাইভারশন ও ইউটার্ন বৃদ্ধি, দেশীয় প্রযুক্তির স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল স্থাপন এবং পথচারীদের জন্য সিগন্যালযুক্ত জেব্রা ক্রসিং চালুর মাধ্যমে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

ডিএমপি সূত্র জানায়, মহানগরীতে মোট ১১০টি ট্রাফিক সিগন্যাল পয়েন্টের মধ্যে ৭৫টিতে ডাইভারশন বা ইন্টারসেকশন চালু করা হয়েছে। এতে কিছু ক্ষেত্রে বাড়তি পথ ঘুরতে হলেও যানজটের তীব্রতা কমেছে এবং গাড়ির গতি বেড়েছে। প্রয়োজনে আরও নতুন পয়েন্টে এ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে দেশীয় প্রযুক্তির সেমি-অটোমেটেড সিগন্যাল বাতি স্থাপন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে আটটি পয়েন্টে এটি চালু হয়েছে এবং আরও ১৭টিতে কাজ চলছে। এ ব্যবস্থায় স্বয়ংক্রিয় ও ম্যানুয়াল-দুই ধরনের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। যানবাহনের চাপ অনুযায়ী সময় সমন্বয় করা যাচ্ছে। পথচারীদের নিরাপদ পারাপারের জন্য পাঁচটি জেব্রা ক্রসিংয়ে পৃথক সিগন্যাল বাতি বসানো হয়েছে। লাল সংকেতে দাঁড়াতে হবে, সবুজ সংকেতে পারাপার করা যাবে। ফুটপাতে স্থাপিত পুশ বাটন চাপলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সবুজ বাতি জ্বলে ওঠে। অনিয়ন্ত্রিত পারাপার ঠেকাতে জেব্রা ক্রসিংয়ের দুই পাশে ৫০ মিটার করে বেড়া নির্মাণ করা হচ্ছে। ফুটওভারব্রিজ ও নির্ধারিত স্থান ছাড়া রাস্তা পারাপার নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) সমন্বয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও সিটি করপোরেশন। বুয়েট প্রযুক্তিগত নকশা সহায়তা দিচ্ছে, আর সিটি করপোরেশন অবকাঠামোগত কাজ করছে। সরেজমিন হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, বাংলামোটর ও গুলশান এলাকায় নতুন সিগন্যাল ব্যবস্থার কার্যকারিতা দেখা গেছে। বিজয় সরণি, শাহবাগ, কাকলী, লাভ রোড ও ধোলাইপাড়সহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ডাইভারশন চালুর পর যানবাহনের গতি বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এ ছাড়া মিরপুর কলেজ, মিন্টো রোড, রামপুরা ও বাড্ডা এলাকায় পথচারী সিগন্যাল ব্যবহারের চিত্র দেখা গেছে। পর্যায়ক্রমে নগরীর সব গুরুত্বপূর্ণ জেব্রা ক্রসিংয়ে এ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান বলেন, ডাইভারশন, আধুনিক সিগন্যাল এবং নিয়ন্ত্রিত পারাপার-এই সমন্বিত পদক্ষেপে রাজধানীর যানবাহন চলাচলে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। দুর্ঘটনা ঝুঁকি কমার পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরছে।

ট্যাগস:

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসনে ত্রিমুখী উদ্যোগ

আপডেট সময় : ১২:১৪:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজধানীতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ত্রিমুখী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। ডাইভারশন ও ইউটার্ন বৃদ্ধি, দেশীয় প্রযুক্তির স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল স্থাপন এবং পথচারীদের জন্য সিগন্যালযুক্ত জেব্রা ক্রসিং চালুর মাধ্যমে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

ডিএমপি সূত্র জানায়, মহানগরীতে মোট ১১০টি ট্রাফিক সিগন্যাল পয়েন্টের মধ্যে ৭৫টিতে ডাইভারশন বা ইন্টারসেকশন চালু করা হয়েছে। এতে কিছু ক্ষেত্রে বাড়তি পথ ঘুরতে হলেও যানজটের তীব্রতা কমেছে এবং গাড়ির গতি বেড়েছে। প্রয়োজনে আরও নতুন পয়েন্টে এ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে দেশীয় প্রযুক্তির সেমি-অটোমেটেড সিগন্যাল বাতি স্থাপন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে আটটি পয়েন্টে এটি চালু হয়েছে এবং আরও ১৭টিতে কাজ চলছে। এ ব্যবস্থায় স্বয়ংক্রিয় ও ম্যানুয়াল-দুই ধরনের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। যানবাহনের চাপ অনুযায়ী সময় সমন্বয় করা যাচ্ছে। পথচারীদের নিরাপদ পারাপারের জন্য পাঁচটি জেব্রা ক্রসিংয়ে পৃথক সিগন্যাল বাতি বসানো হয়েছে। লাল সংকেতে দাঁড়াতে হবে, সবুজ সংকেতে পারাপার করা যাবে। ফুটপাতে স্থাপিত পুশ বাটন চাপলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সবুজ বাতি জ্বলে ওঠে। অনিয়ন্ত্রিত পারাপার ঠেকাতে জেব্রা ক্রসিংয়ের দুই পাশে ৫০ মিটার করে বেড়া নির্মাণ করা হচ্ছে। ফুটওভারব্রিজ ও নির্ধারিত স্থান ছাড়া রাস্তা পারাপার নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) সমন্বয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও সিটি করপোরেশন। বুয়েট প্রযুক্তিগত নকশা সহায়তা দিচ্ছে, আর সিটি করপোরেশন অবকাঠামোগত কাজ করছে। সরেজমিন হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, বাংলামোটর ও গুলশান এলাকায় নতুন সিগন্যাল ব্যবস্থার কার্যকারিতা দেখা গেছে। বিজয় সরণি, শাহবাগ, কাকলী, লাভ রোড ও ধোলাইপাড়সহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ডাইভারশন চালুর পর যানবাহনের গতি বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এ ছাড়া মিরপুর কলেজ, মিন্টো রোড, রামপুরা ও বাড্ডা এলাকায় পথচারী সিগন্যাল ব্যবহারের চিত্র দেখা গেছে। পর্যায়ক্রমে নগরীর সব গুরুত্বপূর্ণ জেব্রা ক্রসিংয়ে এ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান বলেন, ডাইভারশন, আধুনিক সিগন্যাল এবং নিয়ন্ত্রিত পারাপার-এই সমন্বিত পদক্ষেপে রাজধানীর যানবাহন চলাচলে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। দুর্ঘটনা ঝুঁকি কমার পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরছে।