ঢাকা ০২:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ :
উদ্যম ও নতুন প্রত্যয়ে “স্বাধীন বাংলা” রাজনৈতিক দলের ১ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী গজারিয়ায় পরিত্যক্ত কক্ষে মিললো ১৩টি ঘোড়া মাংস বিক্রয় প্রস্তুতকালে নস্যাৎ করলো স্থানীয়রা প্রধান শিক্ষককে মারধর করে পদত্যাগপত্রে সই, থানায় মামলা সুজানগর ও আমিনপুরে মাদক ও অনলাইন জুয়ার মহোৎসব: ধ্বংসের মুখে যুবসমাজ, নির্বিকার প্রশাসন রাজধানী ও রূপগঞ্জে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বড় অভিযান: ‘হেরোইন সম্রাজ্ঞী’ ও ‘ইয়াবা সম্রাট’ গ্রেপ্তার রাজধানীর সায়েদাবাদে চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডের আসামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ মঙ্গল শোভাযাত্রা: বাংলার অসাম্প্রদায়িক চেতনা, ষোলকলার শিল্প ও জাতিসত্তার জীবন্ত প্রতীক বিশেষ প্রতিবেদন: নটরাজ এন. এ পলাশ। বিচারের প্রহসন নাকি আইনের প্রকাশ্য অবমাননা..? চট্টগ্রামে রিভিশন গ্রহণে ন্যায়বোধের নির্মম পরাজয় সাংবাদিকের তথ্যের ভিত্তিতে সায়েদাবাদে ওএমএস-এর চাল-আটাসহ পিকআপ আটক করল যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ পানিতে ডুবে একই পরিবারের ৩ শিশুর মৃত্যু

অভিযান ও জরিমানার প্রতিবাসহ চাঁদাবাজির অভিযোগে সিলেট বিভাগের সব পেট্রোল ও সিএনজি পাম্প বন্ধ ঘোষণা

আব্দুল হাসিব
  • আপডেট সময় : ১১:০২:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৩৩ বার দেখা হয়েছে

মোবাইল কোর্টের অভিযানে জরিমানার প্রতিবাদ এবং চাঁদাবাজির অভিযোগে সিলেট বিভাগের সব পেট্রোল পাম্প ও সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু হয়েছে।

বুধবার (০১ এপ্রিল) রাত থেকে এ ধর্মঘট কার্যকর করা হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে পুরো বিভাগজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস, ডিস্ট্রিবিউশন অ্যাজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি জুবায়ের আহমেদ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন আহমেদ।

এদিকে, পুলিশ, বিজিবি ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এবং পাম্পে চাহিদামতো জ্বালানি তেল না দেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেছেন ট্রাকচালকরা। মাঝ সড়কে ট্রাক ফেলে এই অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এতে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে, ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।

সিলেটের সব পেট্রোল পাম্প বন্ধ ঘোষণা

সংগঠনের নেতারা জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের নামে প্রতিনিয়ত পেট্রোল পাম্পে জরিমানা করা হচ্ছে, যা তারা ‘চাঁদাবাজি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাদের অভিযোগ, চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেলের সরবরাহ না থাকায় ব্যবসায়ীরা আগে থেকেই চাপে রয়েছেন। এর মধ্যে ধারাবাহিক অভিযান ও জরিমানার কারণে ব্যবসা পরিচালনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

তারা আরও বলেন, জ্বালানি তেল বিক্রিতে প্রশাসনের বিভিন্ন শর্ত, ট্যাগ অফিসার নিয়োগ, ডিপোতে বিজিবি মোতায়েনসহ নানা সিদ্ধান্ত ব্যবসায়িক কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তার অসহযোগিতার অভিযোগও তোলেন তারা।

এর আগে বুধবার দুপুরে সিলেট নগরের ‘এ অ্যান্ড এ অ্যাসোসিয়েটস’ নামের একটি পেট্রোল পাম্পে জেলা প্রশাসন ও র‌্যাবের যৌথ অভিযানে সরকার নির্ধারিত সীমার বেশি পেট্রোল মজুদ রাখার অভিযোগে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাম্প মালিকদের দাবি, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ক্ষোভ চরমে পৌঁছায় এবং ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সিলেটের সব পেট্রোল পাম্প বন্ধ ঘোষণা

পাম্প মালিকরা জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে সিলেট বিভাগের সিএনজি, এলপিজিসহ কোনো ধরনের জ্বালানি স্টেশন পরিচালনা করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তারা।

এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে বুধবার সন্ধ্যা থেকে পাম্প মালিকদের একটি প্রতিনিধি দল প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের চেষ্টা করলেও কোনো সমাধান আসেনি। পরে রাতে জরুরি বৈঠক করে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ঘোষণা দেওয়া হয়।

হঠাৎ এ ধর্মঘটে সিলেটজুড়ে জ্বালানি সংকটের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে গণপরিবহন চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছাতে পারে বলে শঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা

ট্যাগস:

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

অভিযান ও জরিমানার প্রতিবাসহ চাঁদাবাজির অভিযোগে সিলেট বিভাগের সব পেট্রোল ও সিএনজি পাম্প বন্ধ ঘোষণা

আপডেট সময় : ১১:০২:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

মোবাইল কোর্টের অভিযানে জরিমানার প্রতিবাদ এবং চাঁদাবাজির অভিযোগে সিলেট বিভাগের সব পেট্রোল পাম্প ও সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু হয়েছে।

বুধবার (০১ এপ্রিল) রাত থেকে এ ধর্মঘট কার্যকর করা হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে পুরো বিভাগজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস, ডিস্ট্রিবিউশন অ্যাজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি জুবায়ের আহমেদ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন আহমেদ।

এদিকে, পুলিশ, বিজিবি ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এবং পাম্পে চাহিদামতো জ্বালানি তেল না দেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেছেন ট্রাকচালকরা। মাঝ সড়কে ট্রাক ফেলে এই অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এতে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে, ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।

সিলেটের সব পেট্রোল পাম্প বন্ধ ঘোষণা

সংগঠনের নেতারা জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের নামে প্রতিনিয়ত পেট্রোল পাম্পে জরিমানা করা হচ্ছে, যা তারা ‘চাঁদাবাজি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাদের অভিযোগ, চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেলের সরবরাহ না থাকায় ব্যবসায়ীরা আগে থেকেই চাপে রয়েছেন। এর মধ্যে ধারাবাহিক অভিযান ও জরিমানার কারণে ব্যবসা পরিচালনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

তারা আরও বলেন, জ্বালানি তেল বিক্রিতে প্রশাসনের বিভিন্ন শর্ত, ট্যাগ অফিসার নিয়োগ, ডিপোতে বিজিবি মোতায়েনসহ নানা সিদ্ধান্ত ব্যবসায়িক কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তার অসহযোগিতার অভিযোগও তোলেন তারা।

এর আগে বুধবার দুপুরে সিলেট নগরের ‘এ অ্যান্ড এ অ্যাসোসিয়েটস’ নামের একটি পেট্রোল পাম্পে জেলা প্রশাসন ও র‌্যাবের যৌথ অভিযানে সরকার নির্ধারিত সীমার বেশি পেট্রোল মজুদ রাখার অভিযোগে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাম্প মালিকদের দাবি, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ক্ষোভ চরমে পৌঁছায় এবং ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সিলেটের সব পেট্রোল পাম্প বন্ধ ঘোষণা

পাম্প মালিকরা জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে সিলেট বিভাগের সিএনজি, এলপিজিসহ কোনো ধরনের জ্বালানি স্টেশন পরিচালনা করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তারা।

এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে বুধবার সন্ধ্যা থেকে পাম্প মালিকদের একটি প্রতিনিধি দল প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের চেষ্টা করলেও কোনো সমাধান আসেনি। পরে রাতে জরুরি বৈঠক করে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ঘোষণা দেওয়া হয়।

হঠাৎ এ ধর্মঘটে সিলেটজুড়ে জ্বালানি সংকটের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে গণপরিবহন চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছাতে পারে বলে শঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা