মাছ-সবজির বাজারে অস্থিরতা কাটেনি, মুরগিতে স্বস্তি
- আপডেট সময় : ১১:০০:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ৭৩ বার দেখা হয়েছে
পবিত্র রমজানের শুরুতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে পণ্যমূল্য বাড়ানোর যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল, চার রোজা শেষেও তার প্রভাব কাটেনি রাজধানীর বাজারগুলোতে। বিশেষ করে মাছ ও সবজির বাজারে এখনো বিরাজ করছে অস্থিরতা। তবে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম কিছুটা কমে আসায় ক্রেতাদের মধ্যে সামান্য স্বস্তি মিলেছে।
সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক মাস আগে টাস্কফোর্স গঠন এবং আমদানি মনিটরিং নিশ্চিত করার পাশাপাশি এফবিসিসিআই পণ্যমূল্য না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন সামান্যই। রোজার এক সপ্তাহ আগে থেকেই মুদিপণ্য, সবজি, মাছ ও মাংসের ওপর সিন্ডিকেটের থাবা বসতে শুরু করে। তবে রোজা শুরুর চার দিন পর এসে মুরগির বাজারে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। গত সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগি ২০০-২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ১৮০-১৯০ টাকায় নেমে এসেছে। একইভাবে ৩৫০ টাকায় ওঠা সোনালি মুরগি এখন ৩২০ টাকা কেজিতে মিলছে।
মালিবাগ বাজারে বাজার করতে আসা গাজী ইমাম হোসেন কালবেলাকে বলেন, ‘রোজার প্রথম দিকে দামের চাপ দেখে মাসিক বাজার করতে পারিনি। তাই আজ এসেছি। দাম কিছুটা কম। তবে এখনো আশানুরূপ নয়।’
মুরগির দামে কিছুটা স্বস্তি মিললেও মাছের বাজারে ভিন্ন চিত্র। রমজানে মাংসের বিকল্প হিসেবে মাছের চাহিদা বাড়ায় সব ধরনের মাছের দাম চড়া। সাধারণ মানের রুই ও কাতলা মাছ ওজনভেদে প্রতি কেজি ৩০০-৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নিম্ন আয়ের মানুষের ভরসা পাঙাশ ও তেলাপিয়াও গতকাল কেজিপ্রতি ২২০-২৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এ ছাড়া পাবদা ৩৫০-৪০০ টাকা, শিং ৬৫০-৭৫০ টাকা এবং আকারভেদে চিংড়ি ৭৫০-১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের দাবি, আড়তে সরবরাহ কম থাকায় বাজারে এই বাড়তি দাম।
সবজির বাজারে ইফতারের অপরিহার্য উপাদান লেবু, শসা ও বেগুনের দাম এখনো আকাশচুম্বী। তবে রোজার শুরুর তুলনায় লেবুর দাম কিছুটা কমেছে। শুরুর দিকে লেবুর হালি ১৫০ টাকা স্পর্শ করলেও এখন মাঝারি আকারের লেবু ৬০-৮০ টাকা এবং ভালো মানের লেবু ১০০-১২০ টাকা হালিতে বিক্রি হচ্ছে। শসা কেজিপ্রতি ৮০-১০০ টাকা এবং বেগুন ৮০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা রমজানের আগের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারের দোকানি বাহার হোসেন কালবেলাকে বলেন, ‘রমজানে এককালীন চাহিদা কমে এসেছে। ফলে দাম ধীরে ধীরে কমে আসছে।’
গরু ও খাসির মাংসের বাজারে গতকাল সবচেয়ে বেশি অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে। গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৮২০-৮৫০ টাকা এবং হাড় ছাড়া মাংস ৯০০-৯৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। খাসির মাংসের জন্য ভোক্তাকে গুনতে হচ্ছে ১০৫০-১৩০০ টাকা। মুদিপণ্যের মধ্যে ছোলা ৯৫-১০৫ টাকা ও চিনি ১০০-১১০ টাকায় স্থির থাকলেও সয়াবিন তেলের সংকট ও বাড়তি দাম নিয়ে ক্রেতাদের মাঝে চরম অসন্তোষ দেখা গেছে। খোলা সয়াবিন তেল ১৮৫-২০০ টাকা এবং পাম তেল ১৫৫-১৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অনেক দোকানে বোতলজাত সয়াবিন তেলেরও সংকট রয়েছে। এ ছাড়া মোটা চাল ৫৪-৬০ টাকা এবং নাজিরশাইল বা মিনিকেট চাল ৮০-৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে, খেজুরের আমদানি শুল্ক কমানোর প্রভাব বাজারে নেই বললেই চলে। সাধারণ মানের জাহিদি খেজুর ২৫০-৩০০ টাকা এবং উন্নত মানের মরিয়ম বা আজওয়া খেজুর এক হাজার থেকে ১৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী হাসান মাহমুদ বলেন, ‘রোজার শুরু থেকেই ভাবছিলাম দাম কমবে, কিন্তু প্রতিদিন বাজারে এসে নতুন দাম শুনতে হচ্ছে। বিশেষ করে লেবু আর সয়াবিন তেলের দাম যেভাবে বেড়েছে, তাতে সেহরি আর ইফতারে কাটছাঁট করা ছাড়া উপায় নেই।’
খুচরা বিক্রেতারা এই ঊর্ধ্বগতির জন্য পাইকারি আড়তদার ও করপোরেট কোম্পানিগুলোকে দায়ী করছেন। তবে উন্নয়ন কর্মী মুনিরা চৌধুরী কালবেলাকে বলেন, ‘একটি পরিকল্পিত উন্নয়ন ব্যবস্থা, উৎপাদন এবং বণ্টন সমন্বয় করা এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ বাজারকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। সাধারণ জনগণকে স্বস্তি দিতে এর বিকল্প নেই।’
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, টিসিবির কার্যক্রম জোরদার এবং অসাধু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ মানুষের এই আর্থিক চাপ ও ভোগান্তি সহজে কমবে না।























