সুনামগঞ্জে ইতালি পাঠানোর নামে লিবিয়ায় পাচার ও নির্যাতনের মামলা, তদন্তভার ডিবিতে হস্তান্তরের দাবি বাদীর
- আপডেট সময় : ০৩:৪৬:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
- / ২৪ বার দেখা হয়েছে
সুনামগঞ্জ জেলা:
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে এক যুবককে লিবিয়ায় পাচার করে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে ১৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারে গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী। সুবিচারের আশায় বাদী মামলাটির তদন্তভার জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)-তে হস্তান্তরের জন্য পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। ভুক্তভোগী যুবকের ভাই মো. নুরুজ্জামান হোসেন বাদী হয়ে সুনামগঞ্জের মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে পিটিশন মামলা দায়ের করেন। যা পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে জগন্নাথপুর থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু করা হয় মামলা নম্বর: ১২, তারিখ: ১৪ জুলাই ২০২৬
মামলার বিবরণ ও এজাহার
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মুজাহিদপুর গ্রামের মো. তাজিল মিয়ার ছেলে কামরুজ্জামানকে ইতালি পাঠানোর কথা বলে ১৫ লাখ টাকায় চুক্তি করে একটি পাচারকারী চক্র। চক্রের প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে সিলেট মহানগরীর জালালাবাদ থানার হাওলাদারপাড়া এলাকার শিপন আহমদ এবং দিরাই উপজেলার ফজলুর রহমানসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
বাদী অভিযোগে উল্লেখ করেন, অভিযুক্তরা বাড়িতে এসে তিনটি স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা সম্পাদন করে দুই দফায় ১৫ লাখ টাকা গ্রহণ করে। কিন্তু এক মাসের মধ্যে ইতালি পাঠানোর কথা থাকলেও ভুক্তভোগীকে মিসর হয়ে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে এক অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। পরবর্তীতে আরও ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হলে দুবাইয়ে অবস্থানরত তার ভাই নুরুজ্জামান অন্য উপায়ে তাকে উদ্ধার করে দুবাই নিয়ে যান। দেশে ফিরে ভুক্তভোগী টাকা ফেরত চাইলে উল্টো আসামিরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
আসামিদের বক্তব্য
-
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জগন্নাথপুর থানার এসআই নুর হোসেন জানান, অভিযোগ তার কাছে রয়েছে এবং তিনি বিষয়টি তদন্ত করে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
-
মামলার ১ নম্বর আসামি শিপন আহমদের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এই মামলা সংক্রান্ত বিষয় তিনি আদালতে মোকাবেলা করবেন।
-
৪ নম্বর আসামি ফজলুর রহমান ফোন কেটে দিয়ে জানান যে, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না এবং পরে কথা বলবেন।
পুলিশের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ ও ডিবির তদন্ত দাবি
মামলা রুজু হওয়ার পর স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বাদী মো. নুরুজ্জামান হোসেন। পুলিশ সুপারের কাছে দেওয়া লিখিত আবেদনে তিনি অভিযোগ করেন, জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নুর হোসেন আসামিদের সাথে গোপনে যোগাযোগ রক্ষা করছেন এবং তাদের গ্রেপ্তারে গড়িমসি করছেন। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশকে অবস্থান জানানোর পরও তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, মামলার মূল আসামি শিপন আহমদ আন্তর্জাতিক মানবপাচার ও স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের সাথে জড়িত এবং সিলেটের রাজনৈতিক প্রভাব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে তদন্ত কাজ প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন।
থানা পুলিশের মাধ্যমে ন্যায়বিচার না পাওয়ার আশঙ্কায় ভুক্তভোগী পরিবার মামলাটি দ্রুত জেলা গোয়েন্দা সংস্থায় (ডিবি) স্থানান্তর এবং মূল আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানিয়েছেন।






















