ঢাকা ০৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ :
বিয়ের প্রলোভনে প্রতারণা, ধর্ষণ ও তথ্য গোপন করে বিয়ে: সংবাদ সম্মেলনে নারীর অভিযোগ মানব পাচার ও মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে প্রতারণার অভিযোগে যশোরের হাসান, তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থার দাবি শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনে সরকার কাজ করছে — প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে- প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সৎ ও জনবান্ধব ইউএনও রাকিবুল হাসানের বদলির আদেশে রানীনগরে হতাশা, আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি মিথ্যা মামলায় ‘ঢাকা প্রতিদিন’-এর সাংবাদিক হাফিজুর রহমান শফিকের মুক্তির দাবিতে তেকসাসের মানববন্ধন ১৬৫ বছরের পুরোনো পুলিশ আইন: কতটা প্রস্তুত ২০২৬ সালের বাস্তবতায়? সংলাপ, সহনশীলতা, সংহতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রতি বৈশ্বিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’-বিষয়ক ঘোষণা ও কর্মসূচির বাস্তবায়নের অগ্রগতি’ শীর্ষক প্রস্তাব গ্রহণ করেছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ। শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা এবং দ্রুত শূন্যপদ পূরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানান, দীর্ঘ ১০ বছর ধরে ঝুলে থাকা ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের পদোন্নতি সংক্রান্ত মামলার জটিলতা এখন সমাধানের পথে। এছাড়া বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের ( কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে গত দুইদিনে মোট ১৩ জনকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টার (পুশ-ইন) অভিযোগ উঠেছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বিরুদ্ধে।

মিথ্যা মামলার মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ; সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি ভুক্তভোগীর

আব্দুল হাসিব
  • আপডেট সময় : ০৭:১৫:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
  • / ২৮ বার দেখা হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার:

লন্ডনপ্রবাসী নুজহাত সারওয়াত তমার বিরুদ্ধে ১ কোটি ৫০ লাখ ৯২ হাজার ৭৬৪ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে ভুক্তভোগীর দাবি, মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাকে ব্ল্যাকমেইল করে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যেই একটি সংঘবদ্ধ চক্র এ মামলা সাজিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১২ জুলাই ২০২৬ তারিখে সি.আর. মামলা নং-৫৮১/২০২৬ হিসেবে ঢাকার সিএমএম আদালতের ৯ নম্বর আদালতে মামলাটি দায়ের করেন সৈয়দা শিনিয়াত নূরী। তিনি ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা সৈয়দ আব্দুল কাদের জিলানীর মেয়ে এবং মহীদুদ্দীন আহমেদের স্ত্রী।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, এর আগে হাতিরঝিল ও রমনা থানায় মামলাটি দায়েরের চেষ্টা করা হলেও পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ করেনি। পরে আদালতে মামলা দায়ের করা হলে কোনো তদন্ত ছাড়াই সরাসরি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

নুজহাত সারওয়াত তমা সাবেক যুগ্ম সচিব এবং কৃষক দলের সাবেক উপদেষ্টা ও আহ্বায়ক প্রয়াত ড. মো. নূরুল ইসলামের কন্যা। তার মা তেজগাঁও বয়েজ স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষিকা।

ভুক্তভোগী জানান, তিনি ২০২৪ সাল থেকে যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। মামলায় উল্লেখিত ঘটনার সঙ্গে তার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। এমনকি বাদীর সঙ্গে তার কখনো কোনো আর্থিক লেনদেন বা ব্যক্তিগত পরিচয়ও ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।

হোয়াটসঅ্যাপে মামলা পাঠিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ

ভুক্তভোগীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশি একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর (০১৩৫৫-৯৭২৩২৮) থেকে তার কাছে মামলার কপি পাঠানো হয়। একই সঙ্গে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে হুমকি দেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়, টাকা না দিলে বাংলাদেশে অবস্থানরত তার পরিবারের সদস্যদের মামলায় আসামি করা হবে এবং তাকে হত্যা মামলায়ও জড়ানো হবে।

পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় জানা যায়, ব্যবহৃত নম্বরটি হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার শেখ শামসুল হকের ছেলে শেখ এমদাদুল হকের নামে নিবন্ধিত।

ভিসা ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ চক্রের অভিযোগ

নুজহাত সারওয়াত তমার অভিযোগ, মামলার বাদী সৈয়দা শিনিয়াত নূরী, তার স্বামী মহিউদ্দীন আহমেদ, মা তোলাত জিলানী, ছোট বোন সৈয়দা সেরা মাহজাবিন এবং বোন জামাই নাহিয়ান মাহমুদ দীর্ঘদিন ধরে ‘গ্লোবাল ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ভিসা কনসালটেন্সি’‘ইন্টারন্যাশনাল ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্ট’ নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভিসা দালালির সঙ্গে জড়িত।

তার দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত মালিক মো. সোহেল রানা হলেও তাকে মামলার আসামি করা হয়নি।

কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

ভুক্তভোগীর ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট চক্রের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বাদীর ছোট বোন সৈয়দা সেরা মাহজাবিন যুক্তরাজ্যভিত্তিক Community Careline Services Medway Limited-এ কর্মরত থাকাকালে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে ৩ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে চাকরিচ্যুত হন বলেও দাবি করা হয়েছে।

সাক্ষীদের নিয়েও প্রশ্ন

মামলায় সাক্ষী হিসেবে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তারা হলেন—

  • প্রীতি ইসলাম (রাজশাহী)
  • রিফাত হোসাইন (নারায়ণগঞ্জ)
  • মিজানুর রহমান (ভোলা)
  • মিলন মিয়া (মানিকগঞ্জ)
  • রাজন দাস (মৌলভীবাজার)
  • মায়মুনা (চট্টগ্রাম)
  • সাবিনা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)

ভুক্তভোগীর দাবি, তারা সবাই সংশ্লিষ্ট ভিসা প্রতিষ্ঠানের জেলা প্রতিনিধি ও দালাল হিসেবে কাজ করতেন।

সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলেনি

নুজহাত সারওয়াত তমা বলেন, তিনি কোনো ভিসা কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কখনো যুক্ত ছিলেন না। শুধু চাঁদার টাকা না দেওয়ায় তাকে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন, অভিযুক্ত চক্রের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন আদালতে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার নানা অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে।

অনুসন্ধানে নুজহাত সারওয়াত তমার বিরুদ্ধে কোনো ভিসা কনসালটেন্সি বা দালালির সঙ্গে সম্পৃক্ততার সত্যতা পাওয়া যায়নি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিচারক ও অভিযুক্তদের বক্তব্য

মামলার বিষয়ে জানতে সংশ্লিষ্ট বিচারকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এছাড়া ২২ জুলাই ২০২৬ তারিখে ঢাকা সিএমএম মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। অপরদিকে, অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া সম্ভব হয়নি।

ন্যায়বিচারের দাবি

নিজেকে সম্পূর্ণ নিরপরাধ দাবি করে লন্ডনপ্রবাসী নুজহাত সারওয়াত তমা বলেন, মিথ্যা মামলা অবিলম্বে খারিজ এবং অভিযোগে উল্লিখিত সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছেন তিনি।

(প্রতিবেদনটি ভুক্তভোগীর অভিযোগ, মামলার নথি এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে সংযোজন করা হবে।)

ট্যাগস:

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

মিথ্যা মামলার মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ; সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি ভুক্তভোগীর

আপডেট সময় : ০৭:১৫:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার:

লন্ডনপ্রবাসী নুজহাত সারওয়াত তমার বিরুদ্ধে ১ কোটি ৫০ লাখ ৯২ হাজার ৭৬৪ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে ভুক্তভোগীর দাবি, মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাকে ব্ল্যাকমেইল করে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যেই একটি সংঘবদ্ধ চক্র এ মামলা সাজিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১২ জুলাই ২০২৬ তারিখে সি.আর. মামলা নং-৫৮১/২০২৬ হিসেবে ঢাকার সিএমএম আদালতের ৯ নম্বর আদালতে মামলাটি দায়ের করেন সৈয়দা শিনিয়াত নূরী। তিনি ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা সৈয়দ আব্দুল কাদের জিলানীর মেয়ে এবং মহীদুদ্দীন আহমেদের স্ত্রী।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, এর আগে হাতিরঝিল ও রমনা থানায় মামলাটি দায়েরের চেষ্টা করা হলেও পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ করেনি। পরে আদালতে মামলা দায়ের করা হলে কোনো তদন্ত ছাড়াই সরাসরি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

নুজহাত সারওয়াত তমা সাবেক যুগ্ম সচিব এবং কৃষক দলের সাবেক উপদেষ্টা ও আহ্বায়ক প্রয়াত ড. মো. নূরুল ইসলামের কন্যা। তার মা তেজগাঁও বয়েজ স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষিকা।

ভুক্তভোগী জানান, তিনি ২০২৪ সাল থেকে যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। মামলায় উল্লেখিত ঘটনার সঙ্গে তার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। এমনকি বাদীর সঙ্গে তার কখনো কোনো আর্থিক লেনদেন বা ব্যক্তিগত পরিচয়ও ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।

হোয়াটসঅ্যাপে মামলা পাঠিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ

ভুক্তভোগীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশি একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর (০১৩৫৫-৯৭২৩২৮) থেকে তার কাছে মামলার কপি পাঠানো হয়। একই সঙ্গে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে হুমকি দেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়, টাকা না দিলে বাংলাদেশে অবস্থানরত তার পরিবারের সদস্যদের মামলায় আসামি করা হবে এবং তাকে হত্যা মামলায়ও জড়ানো হবে।

পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় জানা যায়, ব্যবহৃত নম্বরটি হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার শেখ শামসুল হকের ছেলে শেখ এমদাদুল হকের নামে নিবন্ধিত।

ভিসা ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ চক্রের অভিযোগ

নুজহাত সারওয়াত তমার অভিযোগ, মামলার বাদী সৈয়দা শিনিয়াত নূরী, তার স্বামী মহিউদ্দীন আহমেদ, মা তোলাত জিলানী, ছোট বোন সৈয়দা সেরা মাহজাবিন এবং বোন জামাই নাহিয়ান মাহমুদ দীর্ঘদিন ধরে ‘গ্লোবাল ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ভিসা কনসালটেন্সি’‘ইন্টারন্যাশনাল ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্ট’ নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভিসা দালালির সঙ্গে জড়িত।

তার দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত মালিক মো. সোহেল রানা হলেও তাকে মামলার আসামি করা হয়নি।

কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

ভুক্তভোগীর ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট চক্রের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বাদীর ছোট বোন সৈয়দা সেরা মাহজাবিন যুক্তরাজ্যভিত্তিক Community Careline Services Medway Limited-এ কর্মরত থাকাকালে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে ৩ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে চাকরিচ্যুত হন বলেও দাবি করা হয়েছে।

সাক্ষীদের নিয়েও প্রশ্ন

মামলায় সাক্ষী হিসেবে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তারা হলেন—

  • প্রীতি ইসলাম (রাজশাহী)
  • রিফাত হোসাইন (নারায়ণগঞ্জ)
  • মিজানুর রহমান (ভোলা)
  • মিলন মিয়া (মানিকগঞ্জ)
  • রাজন দাস (মৌলভীবাজার)
  • মায়মুনা (চট্টগ্রাম)
  • সাবিনা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)

ভুক্তভোগীর দাবি, তারা সবাই সংশ্লিষ্ট ভিসা প্রতিষ্ঠানের জেলা প্রতিনিধি ও দালাল হিসেবে কাজ করতেন।

সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলেনি

নুজহাত সারওয়াত তমা বলেন, তিনি কোনো ভিসা কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কখনো যুক্ত ছিলেন না। শুধু চাঁদার টাকা না দেওয়ায় তাকে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন, অভিযুক্ত চক্রের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন আদালতে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার নানা অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে।

অনুসন্ধানে নুজহাত সারওয়াত তমার বিরুদ্ধে কোনো ভিসা কনসালটেন্সি বা দালালির সঙ্গে সম্পৃক্ততার সত্যতা পাওয়া যায়নি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিচারক ও অভিযুক্তদের বক্তব্য

মামলার বিষয়ে জানতে সংশ্লিষ্ট বিচারকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এছাড়া ২২ জুলাই ২০২৬ তারিখে ঢাকা সিএমএম মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। অপরদিকে, অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া সম্ভব হয়নি।

ন্যায়বিচারের দাবি

নিজেকে সম্পূর্ণ নিরপরাধ দাবি করে লন্ডনপ্রবাসী নুজহাত সারওয়াত তমা বলেন, মিথ্যা মামলা অবিলম্বে খারিজ এবং অভিযোগে উল্লিখিত সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছেন তিনি।

(প্রতিবেদনটি ভুক্তভোগীর অভিযোগ, মামলার নথি এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে সংযোজন করা হবে।)